অনলাইন ডেস্ক, ২৯ ডিসেম্বর।। ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলের ওইসে ইমামের কট্টরপন্থী বক্তৃতার কারণে একটি মসজিদ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইমামের বক্তব্যে ‘জিহাদকে সমর্থন করার’ অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, বুভে শহরে অবস্থিত মসজিদটি ছয় মাসের জন্য বন্ধ থাকবে। ওইসের এক ব্যক্তি বলেন, ইমাম জিহাদি যোদ্ধাদের ‘বীর’ হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং ঘৃণা ও সহিংসতাকে উসকে দিয়েছেন।
দুই সপ্তাহ আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন বলেছিলেন, তিনি প্যারিসের ১০০ কিলোমিটার উত্তরে বুভে শহরের গ্রেট মসজিদটি বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করছেন। কারণ সেখানকার ইমাম তার বক্তৃতায় ‘খ্রিষ্টান, সমকামী ও ইহুদিদের’ টার্গেট করছিলেন।
কর্তৃপক্ষ মসজিদটিকে জবাব দিতে ১০ দিন সময় দিয়েছিল। এএফপি স্থানীয় সংবাদপত্র কুরিয়ার পিকার্ডকে উদ্ধৃত করে বলেছে, মসজিদের ইমাম সম্প্রতি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।
মসজিদ পরিচালনাকারী অ্যাসোসিয়েশনের একজন আইনজীবী সংবাদপত্রটিকে বলেছেন, তার মন্তব্য ‘প্রাসঙ্গিক হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি’। আইনজীবী বলেছেন, ‘স্বেচ্ছায় বক্তৃতা করছিলেন’ ওই ইমাম, তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, অনিয়মিত বক্তা হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বাস্তবে তিনি নিয়মিত ইমাম হিসাবে কাজ করছিলেন। ইমামের ‘কট্টর ইসলামী অনুশাসন চর্চার’ প্রতি সমর্থন এবং ‘প্রজাতন্ত্রের আইনে ওপর এর শ্রেষ্ঠত্ব’ রয়েছে বলে দাবি করেছেন।
গত বছর দারমানিন চরমপন্থী সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন মসজিদগুলোতে কঠোর অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
সে সময় তিনি বলেন, অল্প পরিমাণেও বিচ্ছিন্নতাবাদ উৎসাহিত করা হলে বন্ধ করে দেওয়া যেতে পারে।
হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর কার্টুন প্রদর্শনের পর শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটির শিরশ্ছেদ এবং ২০২০ সালের অক্টোবরে নিসে একটি ক্যাথেড্রালে তিনজনকে মারাত্মকভাবে ছুরিকাঘাতের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এসব ঘটনার জন্য ইসলামী চরমপন্থীদের দায়ী করা হয়েছিল।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এ ধরনের চরমপন্থার সন্ধানে ফ্রান্সের ২৬২০টি মসজিদের মধ্যে গত কয়েক মাসে শতাধিক মসজিদ ও নামাজের স্থানে তদন্ত চালানো হয়েছে।