অনলাইন ডেস্ক, ২৮ ডিসেম্বর।। মিয়ানমারে গণবিক্ষোভে অংশ নেয়ায় দেশটির অন্যতম জনপ্রিয় এক তারকাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে জান্তা সরকার।
মঙ্গলবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়ে বলা হয়, মিয়ানমারের জান্তা সরকারের সমালোচনায় অনলাইনে সোচ্চার জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেতা পেইং তাখোন সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী গণবিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন।
পেইং তাখোনের কয়েক লাখ ভক্ত-অনুসারী রয়েছে। পেইংয়ের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ১০ লাখের বেশি অনুসারী ছিল।
গ্রেপ্তারের পরপরই তার এই অ্যাকাউন্ট সরিয়ে দেওয়া হয়। ফেসবুক অ্যাকাউন্টও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে অভ্যুত্থান করে দেশটির সেনাবাহিনী। তারা অং সান সু চির বেসামরিক সরকার উৎখাত করে দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করে।
মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পরপরই দেশটির গণতন্ত্রপন্থী লাখো জনতা বিক্ষোভ শুরু করে। দেশটির সেনাবাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস দমন-পীড়ন চালায়।
পেইংয়ের বোন এক ফেসবুক পোস্টে জানান, এপ্রিলের কোনো একদিন ভোররাতে ৮টি ট্রাকে করে প্রায় ৫০ জন সেনা সদস্য তার ভাইকে গ্রেপ্তার করে নিয়া যায়। সেনা সদস্যরা পেইংয়ের দুটি মোবাইল ফোনও নিয়ে যায়।
পেইংয়ের আইনি পরামর্শক খিন মং মিন্ট বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, তার মক্কেলকে কঠোর শ্রমের সাজা দেওয়া হয়েছে।
পেইংয়ের পরিবার এই দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করার বিষয়টি বিবেচনা করছে। গ্রেপ্তারের আগে ২৪ বছর বয়সী পেইংকে বেশ কয়েকটি বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিতে দেখা যায়।
মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত সরকারের নেতা অং সান সু চির ছবি অনলাইনে পোস্ট করেছিলেন পেইং। ভিন্নমত উসকে দেওয়া ও করোনার বিধিভঙ্গের অভিযোগের মামলায় ইতিমধ্যে সু চিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন জান্তাশাসিত মিয়ানমারের আদালত।
অনলাইনে করা পোস্টে পেইং লিখেছিলেন, ‘আমরা সামরিক অভ্যুত্থানের তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা অবিলম্বে স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি, প্রেসিডেন্ট ইউ উইন মিন্ট, বেসামরিক সরকারের মন্ত্রী ও পার্লামেন্টের নির্বাচিত সদস্যদের মুক্তির দাবি জানাই। ’
পেইং আরও লিখেছিলেন, ‘আমরা ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফলকে শ্রদ্ধা জানানোসহ এনএলডির নেতৃত্বাধীন নতুন বেসামরিক সরকার গঠনের দাবি জানাই। ’
পেইংয়ের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে আগে বিবিসিকে বলেছিলেন, গ্রেপ্তারের সময় পেইং বিষণ্নতা ও শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। এমনকি তিনি ঠিকমতো দাঁড়াতেও পারছিলেন না।
চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান করে দেশটির সেনাবাহিনী। সামরিক জান্তা সু চিসহ দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার করে।
সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে বিক্ষোভ করে আসছে দেশটির গণতন্ত্রপন্থী জনতা। এ বিক্ষোভে জান্তার হাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে।