অনলাইন ডেস্ক, ২৬ ডিসেম্বর।। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট বলেছেন, গোলান মালভূমির দখলকে সুসংহত করার লক্ষ্যে কোটি কোটি ডলারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সেখানে বসতি স্থাপনকারীদের সংখ্যা দ্বিগুণ করতে চান। খবর আল জাজিরা।
৫০ বছর আগে ভূখণ্ডটি সিরিয়ার কাছ থেকে দখল করে নেয় ইসরায়েল। আন্তর্জাতিকভাবে এই দখলদারি বেআইনি হলেও ২০১৯ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এ অঞ্চলে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দেয়। যা গোলান মালভূমিতে দখলদারদের বিনিয়োগের পথ সুগম করে।
আপাতত বিষয়টি নিয়ে চ্যালেঞ্জের পরিকল্পনা নেই জো বাইডেনের প্রশাসনের। রবিবার গোলান মালভূমিতে বিশেষ মন্ত্রিসভা বৈঠকে বেনেট বলেন, এটাই আমাদের মুহূর্ত। এটা গোলান মালভূমির মুহূর্ত।
আরও বলেন, আমাদের এখনকার লক্ষ্য হলো গোলান মালভূমিতে বসতি দ্বিগুণ করা। ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে সিরিয়া থেকে গোলান মালভূমি দখল করে ইসরায়েল এবং ১৯৮১ সালে এটিকে নিজেদের ভূমির সঙ্গে সংযুক্ত করে। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে বিশ্বের বড় একটি অংশ এ কার্যক্রম বেআইনি বলে বিবেচনা করে।
গোলান মালভূমিতে ২৫ হাজারের মতো ইসরায়েলি বাস করে। আরও রয়েছে ২৩ হাজার সিরিয়ান দ্রুজ। এ ভূমিতে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে নেওয়া প্রথম দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র।
ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছে, কৌশলগতভাবে গোলান মালভূমিকে তারা সম্পূর্ণরূপে একীভূত করেছে। সিরিয়ায় ইরান ও তার মিত্রদের থেকে সুরক্ষা হিসেবে মালভূমির নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।
তবে বেনেটের নতুন এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আট-দলীয় কোয়ালিশন মন্ত্রিসভার অনুমোদন প্রয়োজন।
গোলান মালভূমি বেশি বড় নয়। কিন্তু এর থেকে মাত্র ৪০ মাইল দূরে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক শহর, এবং দক্ষিণ সিরিয়ার একটি বড় অংশ স্পষ্ট দেখা যায়।
সে হিসেবে ভূখণ্ডটি সিরিয়ান সেনাবাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার জন্য এটা এক আদর্শ জায়গা। পার্বত্য এলাকা বলে সিরিয়ার সেনাবাহিনীর কোন সম্ভাব্য আক্রমণের পথে এটা একটা চমৎকার প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে কাজ করে।
তা ছাড়া এটি প্রাকৃতিক পানির উৎস। গোলান মালভূমি থেকে পানি গড়িয়ে পড়ে জর্ডান নদীতে। এর এটি হচ্ছে ইসরায়েলের পানি সরবরাহের এক-তৃতীয়াংশের উৎস। জায়গাটি বেশ উর্বর এবং এখানে ফল ও আঙুরের চাষ হয়, পশুপালন হয়।