অনলাইন ডেস্ক, ২৬ ডিসেম্বর।। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর পেলেন– রাজ্যপাল সেই ঘরে প্রবেশের জন্য এসে ফিতা কাটলেন– গরিব আদিবাসীর বাড়িতে বসে খানা খেলেন মহামহিম– ছবি উঠল এবং প্রশাসনের বড় কর্তারা এসে ভিড় জমালেন কিন্তু রাজ্যপাল চলে যেতেই পরদিন ১৪ হাজার টাকার বিল ধরিয়ে দেওয়া হল আদিবাসী বুদ্ধরামের হাতে।
কোথায় পাবেন ১৪ হাজার টাকা– বিল হাতে পেয়েই অবাক বুদ্ধরামের পরিবার। মধ্যপ্রদেশের এই ঘটনা প্রকাশ পেল ২৪ ডিসেম্বর। কয়েক সপ্তাহ আগে রাজ্যপাল মঙ্গুভাই প্যাটেল এসেছিলেন ফিতা কাটতে। বিশাল আয়োজন হয়েছিল এই ঘাটবেড়িয়া গ্রামে।
বুদ্ধরাম সংবাদ মাধ্যমকে জানালেন– রাজ্যপাল চলে যাওয়ার পরই তার নতুন ঘর থেকে ফ্যান খুলে নেওয়া হয়। সরপঞ্চ বা প্রধান জানিয়েছেন– এই পাখা তার নিজের। সেজন্য্য খুলে নিয়েছেন। পরে ১৪ হাজার টাকার বিলটা সামনে আসে। বুদ্ধরামকে বলা হয় ঘরে প্লাইউডের দরজা লাগানো হয়েছে। সেই দরজার জন্য বুদ্ধরামকে দিতে হবে এই টাকা।
এনডিটিভি এই ঘটনা নিয়ে জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। মন্ত্রী জানান– চরম অন্যায়। ঘর থেকে আলো-পাখা খুলে নেওয়া হয়েছে– গেটের জন্য ১৪ হাজার টাকার বিল ধরানো হয়েছে– এটা অনুচিত। বিভাগীয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বুদ্ধরাম বলেন– রাজ্যপাল আসার আগের দিন তাদের উজ্জ্বলা গ্যাসের সিলিন্ডার দেওয়া হয়। কিন্তু সেটা পড়ে রয়েছে। তার পরিবারের ছয় সদস্যের জন্য মজুরি খাটতে যেতে হচ্ছে রোজ।
যে বাড়িটি দেওয়া হয়েছে সেটি বাইরে থেকে চকচকে করা হয়েছে কিন্তু ভিতরে বাস করা এখন সম্ভব নয়। তার উপর ১৪ হাজার টাকা আদায়ের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। এমন জানলে ঘর নিতাম না। উল্লেখ্য– মধ্যপ্রদেশে পিএম আবাস যোজনা নিয়ে অভিযোগ ছিল ঘুষ নিয়ে ঘর দেওয়া হচ্ছে।
কংগ্রেস বিধায়ক কুনাল চৌধুরী জানান– এখানে বড় বড় প্যান্ডেল লাগানো হয়– কিন্তু গরিবদের লুঠ করার প্রবণতা বন্ধ হচ্ছে না। কোথাও কোথাও ঝুপড়ির মতো কাঁচা ঘর বানিয়ে দায়িত্ব সারছে বিজেপি প্রশাসন। আর চমকদার বিজ্ঞাপনে ভরে দেওয়া হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় উপকৃত হচ্ছেন আদিবাসীরা।