স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২৫ ডিসেম্বর।। স্বেচ্ছা রক্তদান ভগবানের দানের মত। স্বেচ্ছা রক্তদানে হিন্দু, মুসলিম, খ্রীষ্টান, জৈন ভেদাভেদ থাকে না। রক্তদান হচ্ছে এক অপূর্ব মেলবন্ধন। স্বেচ্ছায় রক্তদান করলে শরীর ও মন ভাল থাকে।একজনের রক্তে একটি মূল্যবান প্রাণ বাঁচে। এই মহৎ কাজে যুব সমাজকে আরও বেশি করে এগিয়ে আসতে হবে। আজ সকালে আগরতলার সেবা ও সহায়তা পরিষদ আয়োজিত মঠচৌমুহনীস্থিত কাঠিয়াবাবা মিশন স্কুল প্রাঙ্গণে স্বেচ্ছা রক্তদান শিবিরে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ রতন চক্রবর্তী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, আগরতলা পুরনিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, ত্রিপুরা চা উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান সন্তোষ সাহা, পুলিশী দায়বদ্ধতা কমিশনের চেয়ারপার্সন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি স্বপন চন্দ্র দাস, জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের অধিকর্তা ডা. বিশাল কুমার, রামকৃষ্ণ মিশনের সন্যাসী স্বামী জ্যোতিরানন্দ মহারাজ, শিক্ষাবিদ পরেশ চন্দ্র চক্রবর্তী, সেবা ও সহায়তা পরিষদের সভাপতি পীযূষকান্তি সরকার প্রমুখ।
রক্তদান শিবিরে প্রধান অতিথির ভাষণে বিধানসভার অধ্যক্ষ রতন চক্রবর্তী সর্বপ্রথমে ভগবান যীশুখ্রীষ্ট ও ভারতরত্ন প্রয়াত অটল বিহারী বাজপেয়ীর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, প্রভু যীশু আমাদেরকে ক্ষমা ও সহিষ্ণুতা শিখিয়েছেন। প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর প্রচেষ্টাতেই পিছিয়েপড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চল আজ অনেকদূর এগিয়ে গেছে। তিনি বলেন, আগে সংশয় ছিল রক্ত দিলে শরীর দুর্বল হবে। শরীরের ক্ষতি হবে। সেটা ছিল ভ্রান্ত ধারণা।
স্বেচ্ছা রক্তদানে বিভিন্ন ক্লাব, সামাজিক সংস্থা ও যুবারা এখন এগিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব আত্মনির্ভর ভারত ও আত্মনির্ভর ত্রিপুরা গড়ার স্বপ্ন দেখছেন। তাই ত্রিপুরাকে নিজের পায়ে দাঁড় করানোর জন্য শুধু সরকারি চাকুরী নয়, চাই আত্মনির্ভরতা।
আজ রাজ্যে লাইট হাউজ প্রজেক্ট, স্মার্ট সিটি, লজিস্টিক হাব, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের মতো প্রকল্প রূপায়িত হচ্ছে। রাজ্যের উৎপাদিত পণ্য এখন দেশ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। এতে রাজ্যের কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। রাজ্যে এখন উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। আগামী দিনে ত্রিপুরা হয়ে উঠবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রবেশদ্বার। নতুন ভোরের সূর্যোদয় দেখছে ত্রিপুরা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সেবা ও সহায়তা পরিষদের সম্পাদিকা শাশ্বতী দাস। অনুষ্ঠান শুরুর আগে অতিথিগণ স্বামী বিবেকানন্দের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। রক্তদান শিবিরে মোট ৫৪ জন স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। এরমধ্যে ১৫ জন মহিলা ছিলেন। এ উপলক্ষে আয়োজিত হয় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।