অনলাইন ডেস্ক, ২৪ ডিসেম্বর।। ইরানের পরমাণু স্থাপনায় চাইলে ‘আগামীকালের’ মধ্যেই হামলা চালাতে পারে ইসরায়েল। ইসরায়েলের সেই সক্ষমতা আছে বলে জানিয়েছেন দেশটির নতুন বিমানবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল টোমার বার।
ইসরায়েলের সংবাদপত্র ইয়েদিওত আহরোনোটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বুধবার তিনি বলেন, চাইলে ইসরায়েল ইরানের পরমাণু স্থাপনায় আগামীকালের মধ্যেই সফলভাবে হামলা চালাতে পারে। আমাকে ধরে নিতে হবে এটা আমার সময়ে ঘটবে, এবং আমার কাঁধ ইতোমধ্যেই এই দায়িত্বের ওজন বুঝতে পেরেছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন যে ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা সফলভাবে ধ্বংস করে দিতে পারবে। আগামী বছরের এপ্রিল থেকে ইসরায়েলের বিমানবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন মেজর জেনারেল টোমার বার।
২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে বিশ্ব শক্তিধর দেশগুলোর চুক্তি ফের চালু করা হবে কী না তা নিয়ে সম্প্রতি উত্তেজনা বিরাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য অনেক আগে থেকেই বলে আসছে যে, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে ওয়াশিংটন ‘প্ল্যান বি’ এর দিকে অগ্রসর হবে। কিন্তু ‘প্ল্যান বি’ এর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
তবে, ওয়াশিংটনের অন্যতম মিত্র ইসরায়েল অবশ্য বরাবরই ইরানের পরমাণু স্থাপনায় সামরিক হামলার প্রস্তুতির ব্যাপারে ঘোষণা দিয়ে আসছে।
ওদিকে ইরান ইস্যুতে নতুন কৌশল নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। পরমাণু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে অনন্তকাল সময় দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান। একইসঙ্গে দ্রুত পরমাণু চুক্তির আলোচনা শেষ করারও তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
বুধবার ইসরায়েল সফরে গিয়েছিলেন মার্কিন জাতীয় উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান। এ সফরে ইসরাইলি প্রশাসনের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। বসেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের সঙ্গেও।
ইরান এবং ইসরায়েলের অন্যান্য সমস্যা নিয়ে এদিন দীর্ঘ বৈঠক করেছেন বেনেট। সেখানেই তিনি জানিয়েছেন, অনেক দিন ধরেই ইরানকে সঙ্গে নিয়ে নতুন পরমাণু চুক্তি করার চেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু অনন্তকাল সময় দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে কূটনৈতিক আলোচনার জন্য ইরানের হাতে আর খুব বেশি সময় নেই।
তবে নির্দিষ্ট করে দিন চিহ্নিত করে দিতে চাননি জ্যাক। কিন্তু কথাবার্তায় বুঝিয়ে দিয়েছেন, খুব বেশি হলে আর এক সপ্তাহ সময় পাবে ইরান। নইলে আলোচনা ভেস্তে দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এদিন কার্যত হুমকির সুরেই ইরানকে সতর্ক করেছেন জ্যাক।
ইরান ছাড়াও ইসরায়েলের অন্যান্য সমস্যা নিয়েও এদিন কথা বলেছেন মার্কিন জাতীয় উপদেষ্টা। জানিয়েছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেই কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র।
অন্যদিকে বৈঠকের পর বেনেট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে এগুচ্ছে, তাতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা পাবে। ইসরায়েলের জন্য যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বস্তুত, জ্যাক বলেছেন, কোনোভাবেই যাতে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।