স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ১৪ ডিসেম্বর।।
ওয়ানটাইম ফিনান্সিয়াল সাপোর্ট স্কিম রাজ্যে প্রথম চালু হয়েছে। এই প্রকল্পে ১ বছরের পেশাগত উচ্চশিক্ষা প্রশিক্ষণের জন্য আর্থিকভাবে পিছিয়েপড়া এসসি, ওবিসি ও জনজাতি অংশের ছাত্রছাত্রীদের এক বছরে ২টি কিস্তিতে ১ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে।
আজ আগরতলা সুপারিবাগানস্থিত দশরথ ভবনের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত এই স্কিমে জনজাতি ছাত্রছাত্রীদের ২০২০-২১ অর্থবর্ষের প্রথম সার্টিফিকেট প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ও প্রধান অতিথির ভাষণে জনজাতি কল্যাণমন্ত্রী মেবার কুমার জমাতিয়া এই কথা বলেন।
তিনি বলেন, এই স্কিম চালু করার প্রধান উদ্দেশ্য হল যেসব ছাত্রছাত্রীদের পারিবারিক আর্থিক অবস্থা দুর্বল সেই আর্থিক দুর্বলতার জন্য দক্ষতা থাকা সত্বেও যারা কিছু শিখতে পারে না কোনও উচ্চশিক্ষার প্রশিক্ষণ নিতে পারে না তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া।
তাদের স্বনির্ভর ও আত্মনির্ভর হওয়ার প্রশিক্ষণে সহায়তা করে কর্মশিক্ষায় প্রশিক্ষিত করে তোলা। তিনি আশা করেন আজ যারা এই সহায়তা পেয়েছে তারা এই আর্থিক সহায়তা নিয়ে ভালো কিছু করবে এবং করার উৎসাহ পাবে। তিনি বলেন, যে কোনও কাজকেই ভালোবেসে দৃঢ়তার সঙ্গে করতে পারলে সেই কাজে সফলতা আসে।
তিনি ছাত্রছাত্রীদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে যে কোনও বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণের আহ্বান জানান। যে প্রশিক্ষণ গ্রহণের ফলে তারা নিজেরা যেমন স্বনির্ভর হবেন তেমনি তাদের পরিবারকেও ভালো একটি উপার্জনশীল পরিবার হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিতে পারবেন। তিনি বলেন, যে কোনও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণই এখন নেওয়া খুব জরুরি।
নিজের যোগাতার ও দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দিয়ে তবেই চাকরি পাওয়া যায়। তিনি সকল ছাত্রছাত্রীদের পড়াশুনা ও কর্মশিক্ষায় বেশি শ্রমদিয়ে ভালো কিছু উপার্জন বা লাভের জন্য কঠোর পরিশ্রম করার পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণে জনজাতি কল্যান দপ্তরের সচিব পুনিত আগরওয়ালও এই স্কিমের সুবিধা গ্রহণ করে আর্থিকভাবে দুর্বল জনজাতি অংশের ছাত্রছাত্রীদের নিজেদের আত্মনির্ভর হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন টিআরপি এবং পিটিজি দপ্তরের অধিকর্তা নগেন্দ্র দেববর্মা। স্বাগত ভাষণ দেন জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের উপঅধিকর্তা সঞ্চিতা রায়।
ধন্যবাদ সূচক বক্তব্য রাখেন জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা রিংকু বিয়াহ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদরের অতিরিক্ত মহকুমা শাসক বিনয় ভূষণ দাস ও পশ্চিম জেলা ওয়েলফেয়ার অফিসার বুধিলিয়ান রাখল। অনুষ্ঠানে জনজাতি ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে এক ক্যুইজ প্রতিযোগিতাও আয়োজিত হয়।
জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী মেবার কুমার জমাতিয়া ক্যুইজে বিজয়ী ছাত্রছাত্রীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে সারা রাজ্যের ৩২১ জন জনজাতি অংশের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ২০২০-২১ অর্থবর্ষের ওয়ান টাইম ফিনান্সিয়াল সাপোর্ট স্কিমের সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।
অতিথিগণ মঞ্চে রাজ্যের প্রতিটি জেলা থেকে আগত ৮ জন ছাত্রছাত্রীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সার্টিফিকেট তুলে দেন। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন ত্রিপুরা স্টেট জনজাতি ফোক মিউজিক কলেজের ছাত্রছাত্রীরা।