অনলাইন ডেস্ক, ১৩ ডিসেম্বর।। তাইওয়ানে গত এক থেকে দেড় মাসে করোনার কোনো স্থানীয় সংক্রমণ ঘটেনি। তবে সম্প্রতি এক তরুণীর করোনা আক্রান্ত হওয়া নিয়ে দেশটিতে হুলুস্থুল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
সংক্রমিত ওই তরুণী বিদেশ সফরের ইতিহাস নেই। রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্তে নেমেছিলেন বিজ্ঞানীরা। শেষ পর্যন্ত জানা গেল, ল্যাবে ইঁদুরের কামড়েই করোনা আক্রান্ত হন ওই তরুণী।
আনন্দবাজার জানায়, তাইওয়ানের শীর্ষস্থানীয় গবেষণা সংস্থা ‘অ্যাকাডেমিয়া সিনিকা’য় কাজ করতেন ২০ বছর বয়সী ওই তরুণী। এ সপ্তাহে তার করোনা পজিটিভ হওয়ার কথা জানা যায়।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী চেন শি-চুং জানান, নভেম্বরের মাঝামাঝি এই গবেষণাগারে কাজ করতে গিয়ে তিনি সংক্রমিত হয়েছিলেন। মডার্নার কোভিড টিকার দু’টি ডোজই নেওয়া ছিল তরুণীর। সম্প্রতি কোনো বিদেশ সফরও করেননি তিনি। এরপরও আক্রান্ত হয়েছেন করোনায়। তিনি ডেল্টায় আক্রান্ত হন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, সংক্রমিত তরুণীকে গবেষণাগারের একটি ইঁদুর কামড়েছিল।
ইঁদুরটির শরীরে করোনাভাইরাস ছিল।
অবশ্য তিনি বলেন, এই ইঁদুরের থেকে তরুণীর দেহে ভাইরাসের প্রবেশ ঘটেছে কিনা তা এখনো নিশ্চিত হওয়া জানা যায়নি। এ জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।
তাইওয়ানে ১৮টি বায়োসেফটি লেভেল-৩ গবেষণাগার রয়েছে। নিরাপত্তার কড়াকড়ির নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সংশ্লিষ্ট গবেষণাগারটি। সেটিতে করোনাভাইরাসের মতো বহু ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া নিয়ে কাজ হয়।
এই গবেষণাগারে মাইক্রোবায়োলজিক্যাল এবং ইমিউনোলজিক্যাল পরীক্ষা হয়। বিভিন্ন প্রাণীর (যেমন ইঁদুর) দেহে পরীক্ষা করে দেখা হয় ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা।
প্রাণীর থেকে মানুষের দেহে করোনা ছড়ানোর আশঙ্কা কতটা, তা নিয়ে বিভিন্ন মত আছে। সম্প্রতি ‘সেল’ পত্রিকার একটি রিপোর্টে যেমন দাবি করা হয়েছে, উহানের সি-ফুড মার্কেট থেকে ভাইরাসটি ছড়ানোর তত্ত্ব বেশি জোরালো।
এই বাজারে একাধিক বন্যপ্রাণী বিক্রি হয়। সেখান থেকে প্রথম ভাইরাসটি হয়তো ছড়িয়েছিল বলে মনে করেন বিজ্ঞানীদের একটা বড় অংশ।
তবে আমেরিকার ‘সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ (সিডিসি) জানিয়েছে, প্রাণিদেহ থেকে মানুষের শরীরে ভাইরাস সংক্রমণের প্রবণতা কম। তারা আরও বলেছে, এ পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণও নেই।