স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ৬ ডিসেম্বর।। রবিবার রাত থেকে অবিরাম বর্ষণ৷ সোমবারেও তার বিরতি নেই ক্ষণিকের জন্যও৷ শুরুটা ঝিরঝিরে হলেও ক্রমে বেড়েছে তার গতি৷কৃষকের মাথায় চিন্তার ভাঁজ৷ মাঠে মাঠে গরীব কৃষকের কর্মব্যস্ততার অন্ত নেই৷ কপালে তার দুশ্চিন্তার ভাঁজ৷
মাঠে গত দুদিন ধরেই দিবারাত্র এক করে কৃষক তার সোনালী ফসল তুলে আনতে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন৷ ক্ষেতে ধান পাতনি দেওয়া৷ আবার সব ধান কাটাও যায় নি৷ এখন তো বিপদ হয়েছে দুদিকেই৷ পাতনি দেওয়া ধান চলে গেছে ক্ষেতভর্তি জলের তলায়৷ আবার পুরো জমিতে জল জমে গিয়ে সব ধান ডুবে গেছে৷
ফসলে পচন ধরে যাওয়ার মতো অবস্থা৷ শরীরের রক্ত জল করা পরিশ্রমের ফসল কতটা তুলে আনা যাবে৷ তা নিয়ে ভাবনার শেষ নেই ছোট বড় কৃষকের৷ নিম্নচাপের ফলে অকাল বর্ষণ বর্ষাকালকেও হার মানিয়ে দিয়েছে৷ টানা দুইদিনের বৃষ্টিতে একেবারে বিপর্যস্ত ও জবুথবু মানুষ৷ সাধারণ মানুষদের যে পরিমাণ সমস্যা হয়েছে এর থেকে বহুগুণ প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে কৃষকদের জন্য৷
কৃষি প্রধান মহকুমা সোনামুড়া, তেলিয়ামুড়া, কল্যাণপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের রবি ফসলে পরিপূর্ণ হয় আছে৷ বৃষ্টির কারণে মূলা, ফুলকপি, বাধাকপি, ধনে পাতা, লাল শাক, পালং শাক, রাই শাক সহ বিভিন্ন সবজি ক্ষেতে জল জমে সেগুলি পচনের সম্ভাবনা প্রবল৷ বৃষ্টির বহর যদি আর দুই দিন থাকে তবে সমস্যা আরো ঘনীভূত হবে বলে বহু কৃষকের অভিমত৷ বিশেষ করে নীচু ও বন্ধ জমির জল সরতে না পারলে বিপত্তি দেখা দেবে৷ পরিণামে ফল হবে আর্থিক ক্ষতি৷
বৃষ্টির কারণে ক্ষতির মুখে পড়া কৃষকদের ফসলগুলিকে বাজারে তুলে আদাম-কুদামে বিক্রি করতে হবে, এটাই স্বাভাবিক৷ এই অনাকাঙ্খিত বৃষ্টির কারণে নীচু জায়গাগুলিতে জল জমে গেছে স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী৷ সবজির চাষেও বিস্তর ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে৷ আলুর চাষে সমূহ ক্ষয়ক্ষতির চিন্তায় অস্থির কৃষকেরা৷ মাটির নিচে আলু পচে যেতে পারে বলে মনে করছেন কৃষকরা৷
এছাড়া ফুলকপির চাষের ক্ষেত্রেও ক্ষতির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না৷ সারা খোয়াই মহকুমা জুড়ে এখন মাঠে মাঠে কৃষকের ফসল বাঁচানোর জীবন মরণ লড়াইয়ের শেষ নেই৷ রাজনগর, তুলাশিখর, চাম্পাহাওর, বাচাইবাড়ি, আশারামবাড়ি, পদ্মবিল, রাম- চন্দ্রঘাট, বেলছড়া সর্বত্রই এখন একই ছবি৷ কি করে ফসল বাঁচানো যায়৷
জলমগ্ণ জমিতে এখন চলছে কৃষকের হাড়ভাঙা খাটুনি৷ বৃষ্টিতে ভিজে ফসল তুলে আনার সংগ্রাম৷ বাড়িতে না আনা গেলেও অন্ততঃ ক্ষেতের আলে বা কোন উঁচু জায়গায় ধান জমা করে কিছু একটা দিয়ে ঢেকে রাখতে পারলেও অন্ততঃ কিছুটা নিশ্চিন্ত৷