অনলাইন ডেস্ক, ৫ ডিসেম্বর।। ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপে মাউন্ট সেমেরু আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাতে নিহত বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ৫৭ জন।
সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওতে ধেয়ে আসা ছাইয়ের মেঘ থেকে দ্বীপের মানুষজনকে পালাতে দেখা গেছে।
বিএনপিবি’র বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, এখন পর্যন্ত ৯০২ জনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার দুপুরের দিকে হঠাৎ করে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। অগ্ন্যুৎপাতের ছাই ১১টি গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে।
কোন কোন জায়গায় ছাইয়ের মেঘে সূর্য সম্পূর্ণ ঢাকা পড়ে যাওয়ায় সবকিছু ঘন অন্ধকারে ছেয়ে গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, আগ্নেয়গিরির আশপাশের গ্রামগুলোতে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়েছে।
এয়ারলাইনসগুলোকে ছাইয়ের মেঘের কারণে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, এই ছাই ৫০ হাজার ফুট পর্যন্ত ওপরে উঠে যেতে পারে।
গত অর্ধ শতাব্দী ধরে এই আগ্নেয়গিরি থেকে প্রায়ই অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আগ্নেয়গিরি জ্বালামুখ থেকে তিন মাইল পর্যন্ত এলাকায় কাউকে ঢুকতে দিচ্ছে না।
অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে ভোলক্যানিক অ্যাশ অ্যাডভাইজরি সেন্টার বলছে, আগ্নেয়গিরির ছাই ভারত মহাসাগরের ওপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমের দিকে যাচ্ছে।
এই প্রতিষ্ঠানটি থেকে আগ্নেয়গিরির ছাই-এর সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে এয়ারলাইনসগুলোকে সতর্ক করা হয়।
সেখানকার একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন, বেশিরভাগ বিমান যে উচ্চতায় ওড়ে, সেমেরু আগ্নেয়গিরির ছাই তার চেয়েও ওপরে উঠেছে।
বিমানের ইঞ্জিনে ছাই ঢুকে গেলে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। মাউন্ট সেমেরু একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। এটি থেকে ৪,৩০০ মিটার উঁচুতেও ছাই নির্গত হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ায় সক্রিয় ১৩০টি আগ্নেয়গিরির মধ্যে একটি মাউন্ট সেমেরু। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩,৬৭৬ মিটার ওপরে। এর আগে ডিসেম্বর মাসে এখানে থেকে সর্বশেষ অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে।