অনলাইন ডেস্ক, ৫ ডিসেম্বর।। জিম লেকারের ৪৩ বছরের বিরল রেকর্ড ছুঁয়েছিলেন এক ভারতীয়। ১৯৯৯ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে অনিল কুম্বলের সেই ১০ উইকেট এখনো আলোচনায়। ২২ বছর পর আর এক স্পিনার অবিস্মরণীয় ঘটনা ঘটিয়ে ফেললেন ক্রিকেটে।
শনিবার মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে ভারতের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ১০ উইকেট দখল করেছেন নিউজিল্যান্ডের বাঁহাতি স্পিনার এজাজ প্যাটেল।
কুম্বলের আগে ইনিংসে ১০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি প্রথম গড়েন ইংলিশ অফ স্পিনার লেকার, ১৯৫৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। লেকার আর কুম্বলের সঙ্গে এজাজের ফারাক একটাই, আগের দুজন ঘরের মাঠেই নিয়েছিলেন ১০ উইকেট। এজাজ প্যাটেল নিলেন বিদেশের মাটিতে!
বিদেশের মাঠে অবিস্মরণীয় সাফল্য পেলেন এজাজ? না, তা বলা যাবে না। বরং বলা উচিত, তার ঘরের মাঠই দুহাত ভরিয়ে দিল তাকে।
কে এই এজাজ প্যাটেল, খুঁজতে গিয়ে নানা তথ্য মিলছে। ১০ উইকেট পাওয়ার পর যা গোগ্রাসে গিলছেন ক্রিকেট ভক্তরা। ১৯৮৮ সালে মুম্বাইয়ে জন্মেছিলেন। ৮ বছর বয়সে মুম্বাই থেকেই পরিবারের সঙ্গে চলে গিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ড।
কিন্তু ক্রিকেটে হাতেখড়ি হয়ে গিয়েছিল মুম্বাইয়ের মাঠেই।
মুম্বাই থেকেই ক্রিকেট নেশাটা সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন কিউইদের দেশে। ঘটনা হল, ১৯৯৬ সালে এজাজ নিউজিল্যান্ডে চলে যাওয়ার তিন বছর পর ১৯৯৯ সালে কুম্বলে ফিরোজ শা কোটলায় পান ১০ উইকেট।
সেই কারণেই বোধহয় মুম্বাইয়ে খেলতে নেমে আপ্লুত হয়ে গিয়েছিলেন এজাজ। এমনকি তার স্ত্রীও এই শহরেরই। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের প্র্যাকটিসে নেট বোলার হিসেবে দেখা গিয়েছে তাকে। কে জানত, ওয়াংখেড়ে চিরকালীন এক ছাপ রেখে যাবেন তিনি!
৪৭.৫ ওভার বল করে ১২ মেডেন সহ ১১৯ রান দিয়ে নিলেন ১০ উইকেট! এই কীর্তি গড়ার পথে এজাজ বলেছেন, ‘আমার কাছে দারুণ একটা মুহূর্ত। আমার পরিবারের কাছেও। কোভিডের জন্য ওরা মাঠে হাজির থাকতে পারেনি ঠিকই, কিন্তু ওরা যে দারুণ খুশি হয়েছে, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আমার ক্যারিয়ারে এটা একটা বিরাট ঘটনা হয়ে থাকবে। মুম্বাইয়ের মাঠে ১০ উইকেট নেওয়ার জন্য কপাল সঙ্গ দিয়েছিল। কুম্বলে স্যারের বিরাট ভক্ত আমি। তার মতো ঘটনা ঘটাতে পেরে ভালো লাগছে। ’
এজাজ প্যাটেল বাঁহাতি পেস বোলার হিসেবে শুরু করেছিলেন ক্রিকেট। ২০১২ সালে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয়। ২০১৫ সালে খেলেন প্রথম লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ।
এজাজের টেস্ট অভিষেক হয়েছে ২০১৮ সালে, পাকিস্তানের বিপক্ষে। তার ঠিক দুই সপ্তাহ আগে টি-টোয়েন্টি অভিষেকও হয়েছে তার। কিন্তু এখনো ওয়ানডে খেলেননি। তার সাফল্য হয়তো এই ইচ্ছেও দ্রুত পূরণ করে দেবে।