কদমতলা ব্লকের কুর্তি গ্রাম পঞ্চায়েতেরেগা দূর্নীতিতে সরব গ্রামবাসী

স্টাফ রিপোর্টার, কদমতলা, ৩ ডিসেম্বর|| উত্তরজেলার কদমতলা ব্লকের কুর্তি গ্রাম পঞ্চায়েতেরেগা দূর্নীতিতে সরব গ্রামবাসী। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ক্রমে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। রেগা দূর্নীতিতে সরব গ্রামবাসী।স্হানীয় পঞ্চায়েত প্রধানের উপর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ।সুষ্ঠু তদন্ত ক্রমে রেগা শ্রমিকদের ন্যায্য কাজ ও মজুরির টাকা মিটিয়ে দিতে দাবি উঠেছে ।ঘটনা উত্তর জেলার কদমতলা ব্লকের কুর্তি গ্রাম পঞ্চায়েতে। স্হানীয় পঞ্চায়েতের রেগা শ্রমিকদের অভিযোগ, গ্রাম প্রধান সুব্রত শব্দকর রেগার সরকারি অর্থ নয়ছয় করে পাহাড় সমান দূর্নীতি করছেন।আর তাতে প্রধানের সাথে সঙ্গ দিচ্ছেন স্থানীয় পঞ্চায়েত কতৃপক্ষও । স্হানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের তিন নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সিদ্দেক আলী অভিযোগ করে বলেন, চলতি অর্থ বছরে তার নামে ষাট ম্যান্ডেজ এর একটি ল্যান্ড লেবেলিং এসেছে বলে জানান গ্রাম প্রধান সুব্রত শব্দকর। প্রধানের কথা মতো তিনি তার আত্মীয় পরিজন নিয়ে চুক্তি অনুযায়ী ষাট ম্যান্ডেজ কাজ করেন। কাজ শেষ হতে না হতেই পঞ্চায়েত থেকে সেই কাজের পাশে সাইনবোর্ড বসানো হয়। সাইনবোর্ডে দুইশো নিরানব্বই ম্যান্ডেজ লিখা দেখে জায়গা মালিকের চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়। প্রধানের সাথে সে ব্যাপারে কথা বললে কোন সদুত্তর পাননি বলে জায়গার মালিক সিদ্দেক আলীর অভিযোগ।ঘটনাটি চাউর হতেই এই কাজের সমস্ত প্রক্রিয়া ডিলিট করে দেওয়া হয় বলে জায়গার মালিক জানান।তিনি আরো বলেন,ঘটনাটি নজরে আসার পর প্রধান ও পঞ্চায়েত কতৃপক্ষ তাকে পঁচিশ হাজার টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামা চাপাও দিতে চেয়েছিলেন।।কিন্তু তিনি পঞ্চায়েত কতৃপক্ষের অন্যায় আবদারকে প্রশ্রয় দেননি। তাতে বর্তমানে ষাট ম্যান্ডেজ কাজ করে এখন পর্যন্ত রেগার নায্য মজুরিটুকু পাচ্ছেন না জায়গার মালিক ও তার আত্মীয় পরিজনরা।তাছাড়া গ্রাম প্রধান সুব্রত শব্দকর রেগার ম্যান্ডেজ দেবেন বলে নিজের বাড়িতে ব্যাক্তিগত কাজ করিয়ে রেগা শ্রমিকদের নায্য মজুরি দেন না বলেও অভিযোগ।গ্রাম প্রধানের লাগামহীন দূর্নীতিতে সরব হয়েছেন স্হানীয় জনগণও। স্হানীয় জনগণ অভিযোগ করে বলেন,গ্রাম প্রধান সুব্রত শব্দকর রেগা শ্রমিকদের ন্যায্য সরকারি টাকা আত্মসাৎ করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ।স্হানীয়রা অভিযোগ করে আরো বলেন, কুর্তি গ্রাম পঞ্চায়েতে দূর্নীতি শুধু সিদ্দেক আলীর ল্যান্ড লেবেলিং এ হয়েছে তা নয়।এরকম ভুরিভুরি দুর্নীতি গোটা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় রয়েছে। চলতি অর্থবছরে ছয় নং ওয়ার্ডের “ইছন মিয়ার নালা” নামের ওয়ার্ক ওর্ডারে রেগা শ্রমিকরা আনুমানিক পাঁচশো ম্যান্ডেজের কাজ করলেও কাগজে কলমে উনিশশো তেষট্টি ম্যান্ডেজ খরচ হয়ে গেছে। পাশাপাশি দুই নং ওয়ার্ডের ল্যান্ড লেবেলিং অফ একালছ আলী এই প্রজেক্টে আর্থিক নয়ছয় হয়েছে বলেও স্হানীয়রা অভিযোগ করেন।স্হানীয়দের দাবি সংশ্লিষ্ট দপ্তর কুর্তি গ্রাম পঞ্চায়েতের পাহাড় সমান দূর্নীতির সুষ্ট তদন্ত ক্রমে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। রেগা শ্রমিকদের ন্যায্য কাজ ও মজুরি দেওয়া হোক। অন্যথায় স্হানীয় জনগণ গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এই দূর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সামিল হবেন। গোটা ঘটনা নিয়ে জি আর এস নুর আলম বলেন,উনারা শ্রমিকদের কাছ থেকে ডিমান্ড এন্ট্রি পাওয়ার পর কাজ শুরু করান।আর বিতর্কিত সিদ্দেক আলীর ল্যান্ড লেবেলিং এর শুধু ইস্টিমিট ও ওয়ার্ক ওর্ডার ইস্যু হয়েছে। শ্রমিকরা কাজের জন্য কোন ডিমান্ড এন্ট্রি করেননি। সুতরাং কে বা কারা কাজ করেছেন তা তাঁর অজানা।তবে পঞ্চায়েত কতৃপক্ষের কথা অনুযায়ী কাজের ইস্টিমিট ও ওয়ার্ক ওর্ডার ইস্যু হল, কিন্তু ডিমান্ড এন্ট্রি ছাড়াই কিভাবে কাজ শুরু হবার আগেই কাজের সাইডে সাইনবোর্ড বসানো হলো তা নিয়ে দেখা দিয়েছে হাজারো প্রশ্ন।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?