স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২৫ নভেম্বর।। রাজ্যের ঐতিহ্য উৎসবের মেজাজে ভোট৷ কিন্তু গণতন্ত্রের উৎসবে গণদেবতারাই ভোট দিতে পারেননি৷ স্নান আর ইস্ট দেবতার পুজো সেরে ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলেও ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার আগেই বাধা৷ বলা হয়, ভোট হয়ে গেছে, যাওয়ার দরকার নেই৷ বাম আমলে বৈজ্ঞানিক রিগিং এর অভিযোগ উঠতো প্রতিটি ভোট শেষ হলেই৷ কিন্তু ভোট দিতে বাধা, ভোট হয়ে গেছে চলে যান, এই অভিযোগ উঠেনি বলেই বেশিরভাগ ভোটারদের বক্তব্য৷
তারপরে সারা রাজ্যে ৮৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে বলে নির্বাচন কমিশন ও আরক্ষা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে৷ তবে রাত পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন গুছিয়ে উঠতে পারেনি৷ জানা গেছে, ভোটের হার ৯০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে৷ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সদরের রিটার্নিং অফিসার অসীম সাহা জানিয়েছেন আগরতলা পুর নিগমের ৫১টি কেন্দ্রে প্রায় ৮৩ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে৷
জিরানিয়ায় একটি আসনে বৃহস্পতিবার ভোট হয়৷ জিরানিয়া নগর পঞ্চায়েতের মোট ১১টি আসন৷ ১০টিতে বিনা লড়াইয়ে জয়ী হয় বিজেপি প্রার্থীরা৷ বৃহস্পতিবার ভোট হয় ১০ নম্বর আসনে৷ ৭০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানা গেছে৷ দক্ষিণ জেলার সাব্রুম এবং বিলোনিয়া দুই মহকুমার পুর ও নগর পঞ্চায়েতে ভোটের হার ৮০.৬২ শতাংশ৷ এমনটাই জানিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার৷ ঊনকোটি জেলা সদর কৈলাসহর এবং কুমারঘাটে ভোট পড়েছে ৮০ শতাংশ৷
খোয়াই রিটার্নিং অফিসার তথা মহকুমা শাসক অসিত কুমার দাস জানান, খোয়াই পুর পরিষদের নির্বাচনে আটটি আসনে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৭৫৩৭টি ভোটের মধ্যে ৫৫৬৪টি ভোট কাস্টিং হয়েছে৷ অর্থাৎ ৭৩.৮২ শতাংশ ভোট কাস্টিং হয়েছে৷ নির্বাচন কমিশন থেকে জানা গেছে, খোয়াইয়ের ৮ কেন্দ্রে ৮৮.৯৩ শতাংশ ভোট পড়েছে৷ হরকুমার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে ৯৪.০৭ শতাংশ, খোয়াই সরকারি দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ে ৯৭.৫৫ শতাংশ ভোট পড়েছে৷ খোয়াইয়ের তিনটি ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে ভোট ৯১ শতাংশের বেশি৷
তবে ভোট গ্রহণ কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা নেই৷ কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনেই ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে বুথ দখল করে ছাপ্পা ভোট দিয়েছে বিজেপি৷ ৮ নম্বর ওয়ার্ডে হামলার শিকার বিরোধীরা৷ বিলোনিয়া এবং আমবাসার মত পুরসভাতেও সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলেছে বামেরা৷ যদিও বিজেপির দাবি সুষ্ঠু এবং অবাধ ভোট হয়েছে৷ ভোট সন্ত্রাসের অভিযোগে বৃহস্পতিবার বিকেলে আগরতলা পূর্ব থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন তৃণমূলের রাজ্য আহ্বায়ক সুবল ভৌমিক সহ দলের নেতা কর্মীরা৷
সুবলবাবু বলেন, ‘‘শাসকদল গণতন্ত্রকে প্রহসনে পরিণত করেছে৷ ২, ৪, ৪১ সহ বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে বুথ দখল এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা৷ আগরতলা পুর নিগম, ১৩টি পুর পরিষদ এবং ৬টি নগর পঞ্চায়েতের মোট ৩৩৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে বৃহস্পতিবার ২২২টিতে ভোটগ্রহণ হয়েছে৷ ১১২টিতে আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে গিয়েছে বিজেপি৷ এদিকে ভোট শেষ হতেই একটাই আলোচনা, কাদের দখলে যাবে নিগম৷
কটা আসন পাবে শাসক দল বিজেপি৷ বামেদের ভাগ্যে জুটবে কয়টি? যদিও সিপিএম পুনর্ভোটের দাবি জানিয়েছে৷ সদ্য মাথা গজিয়ে উঠা তৃণমূল কংগ্রেস কি খুলতে পারবে খাতা? নানাহ প্রশ্ণ উঁকি দিচ্ছে রাজ্য রাজনীতিতে৷ এই প্রশ্ণের সঠিক উত্তর জানতে অপেক্ষা করতে হবে আগামী ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত৷ নির্বাচন শেষ হতেই ভোট সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা করে গোয়েন্দা৷
গোয়েন্দার তথ্য অনুযায়ী, আগরতলা নিগম ভোটে প্রত্যাশিত রেজাল্ট করবে শাসক দল বিজেপি৷ আগরতলা পুর নিগম ভোট নিয়েই মূলত বুথ ফেরত সমীক্ষা করেছে৷ কারণ এবার সবকয়টি রাজনৈতিক দলের পাখির চোখ আগরতলা পুর নিগম ভোটে৷ কেননা নিগম ভোটের ফলাফলের উপর নির্ভর করবে ২৩-এর মহারণের গ্রাফ৷ তাই নিগম ভোটকেই অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো৷ কিন্তু পুর নিগম সহ রাজ্যের পুর ও নগর সংস্থার ভোটে এত কারচুপি কখনো দেখা যায়নি৷