স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ১৭ নভেম্বর।। আত্মনির্ভর ত্রিপুরা গড়ে তুলতে কৃষকদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ সম্প্রসারণে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ করছে সরকার। সরকারের এই উদ্যোগ আত্মনির্ভর পরিবার গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা নিচ্ছে। সঠিক ব্যবস্থাপনায় ও উদ্ভাবনী ভাবনায় রাজ্যের যুব উদ্যোগীরা নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছেন।
আজ লেম্বুছড়াস্থিত ফিসারি কলেজে গ্রন্থাগারের উদ্বোধন, প্রদর্শনী, মতবিনিময় ও সম্প্রসারিত পরিকাঠামোর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর। অনুষ্ঠানের শুরুতেই বৃক্ষরোপণ করেন মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী।
এরপর মহাবিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার ভবন, বর্ধিত ফিড মিল, বর্ধিত একাডেমিক বিল্ডিং-র উদ্বোধন করেন। তার আগে মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্টার্টআপ এবং স্বসহায়ক দল সহ বিভিন্ন প্রদর্শনী স্টল পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সফল চাষী ও উদ্যোগীদের সাথে তাঁরা মতবিনিময়ও করেন। সুবিধাভোগীদের হাতে মাছের পোনা তুলে দেন কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর।
তারপর মহাবিদ্যালয়ের বাৎসরিক প্রকাশনার আবরণ উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিগণ মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফিসারিজ, কৃষি ও পশুপালন বিষয়ক বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন। আইসিএআর প্রবেশিকা পরীক্ষায় ফিসারি কলেজের তিন জন কৃতী ছাত্রছাত্রীর সাফল্যের জন্য তাদের সম্মানিত করেন উপস্থিত অতিথিগণ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন, ডেয়ারি শিল্প নির্ভর প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্ল্যান্ট স্থাপিত হতে চলেছে লেম্বুছড়ার সন্নিকটে। যা দুগ্ধ নির্ভর সুযোগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ প্রচেষ্টায় প্রাথমিক ক্ষেত্রের নানাবিধ সুযোগ সম্প্রসারণ ও পরিকাঠামো উন্নয়নের ফলে আত্মনির্ভরতার পথ খুঁজে পেয়েছেন অনেকেই।
রাজ্যের যুব উদ্যোগীরা উদ্ভাবনী ভাবনায় দক্ষতা বর্ধক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মনির্ভর হচ্ছেন এবং অন্যদের রোজগারের সুযোগ সৃষ্টি করছেন। সমস্ত পরিকল্পনা রূপায়ণে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে সময়ের কাজ সময়ে শেষ করার লক্ষ্যে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ করছে রাজ্য সরকার।
যার ফলশ্রুতিতে স্টার্টআপ, স্বসহায়ক দলের সংখ্যা প্রায় ৬ গুণ বৃদ্ধি, কৃষিক্ষেত্র, দুগ্ধ উৎপাদন, পশুপালন সহ প্রাথমিক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। কিন্তু বিগত দিনে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে প্রকল্প রূপায়ণে পরিকল্পনার ঘাটতি ছিলো। বর্তমান রাজ্য সরকারের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও ইতিবাচক পদক্ষেপের ফলশ্রুতিতে বেড়েছে মাথাপিছু গড় আয়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কৃষকরা কৃষি কাজে যত বেশি সময় ব্যয় করতে পারবেন ততই তাদের ব্যক্তিগত উপার্জন এবং রাজ্যের সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে। সেই লক্ষ্যে কৃষকদের কৃষিকাজ নির্ভর নানাবিধ সুযোগ ও পরিষেবা সম্প্রসারণে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ করছে সরকার। এরফলে দুধ, ডিম উৎপাদন সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য আসছে।
কৃষকদের পিছিয়ে রাখার বদলে তাদের সম্মানজনক অবস্থা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে রোজগার সৃষ্টিতে একাধিক পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন হচ্ছে রাজ্যে। কৃষকদের আর্থসামাজিক মানোন্নয়নেও গুচ্ছ পরিকল্পনা রূপায়িত হচ্ছে। সফল উদ্যোগী ও এই পেশায় অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের নতুন নতুন উদ্যোগীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া ও সহায়তা করতে এগিয়ে আসার আহ্বান রাখেন মুখ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর বলেন, উত্তর পূর্বের আর্থ সামাজিক মানোন্নয়ন ও সর্বাঙ্গীন বিকাশে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ করছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই অঞ্চলের উন্নয়ন সাধনে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশিত পথে কৃষক হিতৈশী নীতির মাধ্যমে গুচ্ছ পরিকল্পনা রূপায়িত হচ্ছে। কৃষিক্ষেত্রের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ ও সমস্ত স্তরের কৃষকদের সুবিধার্থে ১০ হাজার এফপিও স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রায় কাজ চলছে।
অর্থকরি ও লাভজনক ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকদের মুনাফা বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে কেন্দ্রীয় সরকার। যার অন্যতম লক্ষ্য কৃষিক্ষেত্র ও কৃষকদের মানোন্নয়ন। বর্তমান সরকারের সময়ে কেন্দ্রীয় প্রকল্পে যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে তার সঠিক প্রতিফলন পরিকল্পিত হচ্ছে। তবে বিগত সরকারের সময়ে অনেকাংশেই বরাদ্দকৃত অর্থ, যথাযথ রূপায়ণে প্রকৃত প্রতিফলন পাওয়া যেতো না।
দেশের সার্বিক উন্নয়নের স্রোতে উত্তর পূর্বাঞ্চল এখন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলছে। প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং সমস্যা নির্মূলীকরণে পূর্বাঞ্চল সফর করছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা। স্মার্টআপ সহ প্রাথমিক ক্ষেত্রে যুব উদ্যোগীরা আধুনিক ভাবনায় সুনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলেছেন।
ক্ষুদ্র, মাঝারি এবং কৃষি নির্ভর বড় শিল্প বিকাশের সুযোগ সম্প্রসারিত হয়েছে। এক সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলেছে দেশের কৃষকরা। দুর্যোগ বা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে কৃষি নির্ভর অর্থনীতির। যা কোভিড অতিমারীর সময়ে আমাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহরায় বলেন, কোভিড অতিমারীর মধ্যেও কৃষিক্ষেত্রে উন্নতি এসেছে। বেড়েছে কৃষকদের আয়। রাজ্যে উৎপাদিত বিভিন্ন কৃষিজাত সামগ্রীকে কাজে লাগিয়ে উদ্ভাবনী পন্থায় রোজগারের সুযোগ সম্প্রসারিত হয়েছে।
সরকারের সঠিক ব্যবস্থাপনার ফলে কাঁঠাল, আনারস সহ অন্যান্য কৃষিজাত সামগ্রী বিদেশে রপ্তানী সহ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করছে। গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে অর্থকরি ফসল উৎপাদনে। তাতে সাফল্যও আসছে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক কৃষ্ণধন দাস, ইম্ফল কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অনুপম মিশ্র প্রমুখ।