স্টাফ রিপোর্টার, কুমারঘাট, ১৫ নভেম্বর।। গ্রামীণ জনগণের আর্থ সামাজিক জীবনমান উন্নয়নে সমবায়ের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। সমবায়ের উদ্দেশ্য রাজ্যের প্রতিটি মানুষ যেন নিজের দাঁড়াতে পারে। এই কারে সমিতির যুক্তদের নিষ্ঠা, একাগ্রতা, সততা ও সক্রিয়তা বাড়ানোর উপর আরও বেশি করে গুরুত্ব দিতে হবে। আজ ফটিকরায়ের নজরুল কলাকেন্দ্রে ঊনকোটি স্লোভিত্তিক ৬৮তম অখিল ভারত সমবায় সপ্তাহ-২০২১ উদযাপনের অঙ্গ হিসাবে আলোচনাচক্রের উদ্বোধন করে একথা বলেন সমবায় মন্ত্রী রামপ্রসাদ পাল।
এবছর সমবায় সপ্তাহ উদযাপনের মূল ভাবনা হচ্ছে ‘সমবায়ের মাধ্যমে অগ্রগতি। এ উপলক্ষে আজকের আলোচনাচক্রের বিষয় ছিলো-‘বিপনন, ভোক্তা, প্রক্রিয়াকরণ সমবায় সমিতি ও মূল্য যুক্তকরণ”। আলোচনাচক্রে সভাপতি ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কুমারঘাট প্রাইমারি মার্কেটিং কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের চেয়ারম্যান সুনীল চন্দ্র দাস।
আলোচনাচক্রে বক্তব্য রাখেন ঊনকোটি জিলা পরিষদের সভাধিপতি অমলেন্দু দাস, ত্রিপুরা হটিকালচার কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান বিধায়ক সুধাংশু দাস, সমবায় দপ্তরের বিশেষ সচিব অভিষেক চন্দ্রা। স্বাগত ভাষণ দেন সমবায় দপ্তরের উপ নিয়ামক নিখিল রঞ্জন চক্রবর্তী।
আলোচনাচক্রে উদ্বোধকের ভাষণে সমবায় মন্ত্রী রামপ্রসাদ পাল বলেন, সমবায় সমিতিগুলির মাধ্যমে সমাজে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষকে স্বনির্ভর করে তোলা যায়। মানুষকে আত্মনির্ভর হতে সরকার সমবায় সমিতিগুলিকে উৎসাহিত করছে। চাহিদার সাথে সঙ্গতি রেখে সমবায় সমিতিগুলিকে আয়ের মুখ দেখাতে সরকার নতুন নতুন প্রকল্প নিয়ে আসছে।
একে কাজে লাগাতে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। এরজন্য পুরাতন ধ্যান-ধারণা, মানসিকতার পরিবর্তন করে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে সমবায় সমিতির সদস্যদের এগিয়ে আসতেও তিনি আহ্বান জানান। আলোচনাচক্রে বিধায়ক সুধাংশু দাস বলেন, বেকারত্ব শুধু এ রাজ্যের বা দেশেরই সমস্যা নয়। এই সমস্যা বিশ্বব্যাপী।
এর থেকে উত্তরণে প্রধানমন্ত্রী আত্মনির্ভর ভারতের কথা বলেছেন। তিনি বলেন, সমবায় সমিতি গঠনের মাধ্যমে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন ও ব্যবসার কাজে যুক্ত হলে যে কেউ আত্মনির্ভর হতে পারেন। সমবায় সমিতিগুলিকে সরকারের অনুদানের উপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেরা কিছু করে দেখাতেও তিনি আহ্বান জানান।
ঊনকোটি জিলা পরিষদের সভাধিপতি অমলেন্দু দাস বলেন, সমবায়ের মাধ্যমে অনেক পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছে। তাদের কাজকে কিভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, তাদের আয়কে কিভাবে বাড়ানো যায় তার গঠনমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্যই এই জাতীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন।
আলোচনাচক্রের শুরুতে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ফটিকরায় থানা রোড থেকে ফটিকরায় বাজার হয়ে নজরুল কলাকেন্দ্রের সামনে এসে মিলিত হয়। সেখানে সমবায়ের পতাকা উত্তোলন করেন সমবায় মন্ত্রী রামপ্রসাদ পাল। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সকল সমবায় সমিতিগুলি বিশেষ অবদান খেছে তাদের পুরস্কৃত করা হয়।
এছাড়া জেলাভিত্তিক সমবায় সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত বসে আকো প্রতিযোগিতা ও প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমারঘাট পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান হ্যাপি দাস, অতিরিক্ত জেলাশাসক সত্যব্রত নাথ, জিলা পরিষদের সদস্য নীলকান্ত সিনহা প্রমুখ।