স্টাফ রিপোর্টার, জিরানীয়া, ১৫ নভেম্বর।। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনে অসামান্য অবদান রেখেছিলেন ভগবান বিরসা মুক্তা। জনজাতীয় গৌরব দিবসের মাধ্যমে জনজাতিদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও বীরত্বের প্রতি যথার্থ সম্মাননা আপনের উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
আজ খুমুলুঙ নুডাই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত জনজাতীয় গৌরব দিবস অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিগণ।
এরপর বিশ্ব ব্যাঙ্কের অর্থানুকুলো জনজাতিদের স্থিতিশীল জীবনমানের বিকাশ ও পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে ১২৯৫ কোটি টাকার প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিটেরও সূচনা করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন, বিগত দিনে পরিকল্পিতভাবে স্বাধীনতা আন্দোলনে জনজাতি ব্যক্তিত্বদের বীরত্বপূর্ণ ইতিহাসকে উপেক্ষিত করে রাখা হয়েছিলো।
ভগবান বিরসা মুন্ডা সহ জনজাতিদের অবদানের প্রসার ও যোগ্য সম্মাননা প্রদানের আন্তরিকতায় ঘাটতি পরিলক্ষিত ছিলো। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জনজাতীয় গৌরব দিবসের মাধ্যমে জনজাতিদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও বীরত্বের প্রতি সম্মানার্থে যথার্থ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
ভারত স্বাধীন হওয়ার এত বছর পরেও ভগবান বিরসা মুন্ডার জীবনধারা বিস্তারিত পরিসরে প্রচারের উদ্যোগ গ্রহণ করা যায়নি। ত্রিপুরার সুযোগ্য সন্তান যারা স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছিলেন বর্তমানে তাদেরকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। কিন্তু ভগবান বিরসা মুন্ডার মতো ব্যক্তিত্বকে যোগ্য সম্মাননা প্রদানে দীর্ঘ সময় লেগে গেছে।
স্বাধীনতা আন্দোলনে জনজাতিদের অবস্থান সেই অর্থে ইতিহাসে যথার্থ স্থান পায়নি। এই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে উপেক্ষা করা হয়েছিলো। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মহারাণী কাঞ্চনপ্রভা দেবীও সঠিক সময়ে ত্রিপুরাকে ভারত ভুক্তির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছিলেন।
দীর্ঘ সময় ধরে উপেক্ষিত থাকা উত্তর পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আন্তরিক প্রচেষ্টায় গতি এসেছে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জনজাতি কল্যাণমন্ত্রী মেবার কুমার জমাতিয়া বলেন, বিরসা মুন্ডা পিছিয়ে পড়া পরিবার থেকেও উঠে এলেও তিনি খুব মেধাবী ছাত্র ছিলেন।
তিনি ইংরেজদের দমন পীড়ন নীতি চাক্ষুষ করে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে মুখর হয়েছিলেন। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামেও তিনি ভূমিকা নিয়েছিলেন। ভগদান বিরসা মুন্ডার জীবন থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়ার অনেক কিছুই রয়েছে। তিনি বলেন, রাজ্যের জনজাতিদের কল্যাণে কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
অনুষ্ঠানে ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য পূর্ণচন্দ্ৰ জমাতিয়া বলেন, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে যারা ইংরেজদের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছিলেন তাদের মধ্যে বিরসা মুন্ডা একজন।
তিনি শুধুমাত্র মুন্ডা সম্প্রদায় বা ভারতবর্ষেরই নন সমগ্র বিশ্বেই তাঁকে স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এমডিসি গণেশ দেববর্মা, টিটিএএডিসির মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক সি কে জমাতিয়া, জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের অধিকর্তা বিশাল কুমার প্রমুখ।