অনলাইন ডেস্ক, ১৩ নভেম্বর।। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে নির্ধারিত সময়ে সমাপ্তি টানা যায়নি জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলন কপ২৬-এর। জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে খারাপ প্রভাবগুলো এড়াতে একটি চুক্তির জন্য শনিবার পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে আলোচনা। বিবিসি জানায়, মূল আলোচ্যের মধ্যে রয়েছে কয়লা ও অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানির জন্য ভর্তুকি ও দরিদ্র দেশগুলোকে আর্থিক সহায়তার বিষয়টি।
এ ছাড়া আলোচকেরা এখনো চুক্তিতে থাকা কিছু শব্দ নিয়ে যুক্তিতর্ক চালিয়ে যাচ্ছেন। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে হুমকির মুখে থাকা ছোট দ্বীপ দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতেরা শুক্রবার বলেছেন, তাদের ভূমি দ্রুত অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। এ দিন সম্মেলনের সভাপতি অলোক শর্মা ‘কাজ করতে পারে’ এমন একটি নির্দেশনার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখতে পারলে জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। এটি প্যারিস চুক্তির একটি মূল অংশ যাতে বেশির ভাগ দেশ স্বাক্ষর করেছে। এ লক্ষ্য পূরণের জন্য ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক নির্গমন ৪৫ শতাংশ কমাতে হবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে সামগ্রিকভাবে শূন্যে নামতে হবে। শুক্রবারে প্রকাশিত একটি খসড়া চুক্তিতে কয়লা ও অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জলবায়ু বিষয়ক ক্যাম্পেইনাররা সমালোচনা করলেও এই প্রথমবার জাতিসংঘের এ ধরনের নথিতে কয়লা স্পষ্টভাবে উল্লেখ হচ্ছে। সংশোধিত খসড়ায় গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস করার পরিকল্পনাগুলো প্রকাশ করার জন্য সরকারগুলোর জন্য আরও কঠোর সময়সীমার জন্যও বলা হয়েছে। কপ জলবায়ু সম্মেলন অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর ঘটনা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
এর আগেও চূড়ান্ত চুক্তির ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার ইতিহাস রয়েছে। কপের প্রেসিডেন্ট অলোক শর্মা ইতিমধ্যে দুবার সংবাদ সম্মেলন বাতিল করেছেন। শুক্রবার বিকেলে জলবায়ু সম্মেলন নিয়ে তার সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের কথা ছিল। কিন্তু আলোচকেরা এখনো যুক্তিতর্ক চালিয়ে যাওয়ার কারণে সংবাদ সম্মেলন বাতিল করা হয়।