BSF: সীমান্তে গুলি চালানোর দায় বিএসএফের: তৃণমূল বিধায়ক


অনলাইন ডেস্ক, ১৩ নভেম্বর।। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে প্রায়ই বাংলাদেশিদের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এবার নিজ দেশে গুলি চালানোর অভিযোগে বাহিনীটিকে বিদ্ধ করলেন পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল বিধায়ক উদয়ন গুহ।স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, শুক্রবার যখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব অজয় ভল্লা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী ও স্বরাষ্ট্রসচিব ভগবতীপ্রসাদ গোপালিকার সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন, একই সময়ই সীমান্তে গুলি চালনার ঘটনার দায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ওপরেই দেন উদয়ন।

গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে তিন সন্দেহভাজন পাচারকারীর মৃত্যু হয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, মৃত তিনজনের মধ্যে একজন ভারতীয়, বাকি দুজন বাংলাদেশের নাগরিক। মৃত ভারতীয়ের নাম প্রকাশ বর্মণ। সেই নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেন দিনহাটার নবনির্বাচিত বিধায়ক। উদয়ন বলেন, ‘মাথায় গুলি লেগে প্রকাশ বর্মণের মৃত্যু কেন হলো? বিএসএফের মদদ ছাড়া সীমান্তে কোনো কিছুই পাচার করা সম্ভব নয়। আমি সীমান্তবর্তী এলাকার বিধায়ক। অধিকাংশ কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা।

সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের সমস্যার কথা আমি জানি। স্টিলের ব্লেড দিয়ে মোড়া কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে কী করে পাচার হয়? তা নিয়ে সকলের মনেই প্রশ্ন আছে।’ তিনি বলেন, ‘বিএসএফ মাঝে মধ্যে দু-একজনকে গ্রেপ্তার করে, গুলি চালায়, কিন্তু পাচার সব সময় চলতে থাকে। মাঝে মাঝে যখন পাচারকারীদের সঙ্গে টাকা পয়সার ভাগে সমস্যা হয়, তখন বিএসএফ গুলি চালায়। এলাকার মানুষদের ওপর জুলুম চলতে থাকে। মনে রাখতে হবে, কাউকে হত্যা করার অধিকার বিএসএফের নেই। গুলি করে আটকাতে পারতেন সীমান্তরক্ষীর বাহিনীর সদস্যরা।

তা করা হলো না। বিএসএফের দিকে কেউ পাথর ছুড়েছে, এ কথা কেউ বিশ্বাস করবে না। এ সব অজুহাত দেওয়া হচ্ছে। আমরা ধিক্কার জানাচ্ছি এই কাজে। বিএসএফের ওপর অবিলম্বে কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ন্ত্রণ করুক। না হলে অশান্তি বাড়বে।’’ এ দিকে কয়েকটি রাজ্যের সীমান্তে বিএসএফের এখতিয়ারভুক্ত এলাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে কেন্দ্র। যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গও আছে। রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই নির্দেশ ঘোষণার পর থেকে বিরোধিতা শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে তিনি এই নির্দেশ প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছেন।

উদয়ন বলেন, ‘এত দিন ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বিএসএফের এলাকা ছিল। শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় ওই এলাকায় বিএসএফ হস্তক্ষেপ করতে পারত। এখন নতুন আইন বলবৎ করার চেষ্টা হচ্ছে পাঞ্জাব, পশ্চিমবঙ্গ এবং আসামে ৫০ কিলোমিটার বিএসএফের আওতায় আনার চেষ্টা হচ্ছে।’তিনি আরও বলেন, ‘রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিবাদ করেছেন।

আমরাও প্রতিবাদ করছি। কারণ ৫০ কিলোমিটার হলে অনেক দূর পর্যন্ত এলাকা বিএসএফের এখতিয়ারের মধ্যে চলে আসবে। আমরা যারা সীমান্ত এলাকায় থাকি, তারা জানি, কীভাবে বিএসএফের এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় জুলুম চালায় বাহিনী। আমাদেরও গাড়ি আটকে রেখে বারবার নাজেহাল করা হয়। এবার সাধারণ মানুষও অত্যাচারের মুখে পড়বে।’

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?