অনলাইন ডেস্ক, ১৪ নভেম্বর।। যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের অনেক পরিবার টাকার অভাবে পড়ে ২০ দিন বয়সী কন্যাদেরকেও আগাম বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর।
শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের পরিবারগুলো ২০ দিন বয়সী কন্যাদেরও ভবিষ্যতে বিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বচ্ছল পুরুষদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন বলে খবর রয়েছে।
বিবৃতিতে ফোর বলেন যে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার আগেও ইউনিসেফের অংশীদাররা শুধুমাত্র হেরাত এবং বাগদিস প্রদেশে ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ১৮৩টি বাল্যবিবাহ এবং ১০টি শিশু বিক্রির ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। ওই শিশুদের বয়স ছিল ছয় মাস থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।
ফোর বলেন, ‘আফগানিস্তানে বাল্যবিবাহ বাড়ছে এমন প্রতিবেদনে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্ট পেয়েছি যে, অনেক পরিবার এমনকি মাত্র ২০ দিন বয়সী মেয়েদেরকেও আগাম বিয়ে দিয়ে স্বচ্ছল পুরুষদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে’।
তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারী, চলমান খাদ্য সংকট এবং শীতকাল চলে আসায় আফগানিস্তানের সংকট আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
২০২০ সালে আফগানিস্তানের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা এতটাই দরিদ্র ছিল যে তারা তাদের মৌলিক পুষ্টি বা বিশুদ্ধ পানির চাহিদাও মেটাতে পারতো না।
তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানের অত্যন্ত ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও অনেক পরিবারকে দারিদ্র্যের গভীরে ঠেলে দিচ্ছে এবং তাদের ছোট ছোট বাচ্চাদের দিয়ে কাজ করানো এবং অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেওয়ার মতো নির্মম কাজেও বাধ্য করছে’।
ফোর বলেন, ‘আফগানিস্তানের অধিকাংশ কিশোরী মেয়েদের এখনও স্কুলে যেতে দেওয়া হচ্ছে না, তাই বাল্যবিবাহের ঝুঁকি এখন আরও বেশি। শিক্ষা প্রায়শই বাল্যবিবাহ এবং শিশুশ্রমের মতো নির্মম বিষয় মোকাবিলার জন্য সর্বোত্তম সুরক্ষা’।
তিনি বলেন, মেয়েদের তাড়াতাড়ি বিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে ইউনিসেফ তার অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে।
তিনি বলেন, যে মেয়েদের তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় তাদের স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার সম্ভাবনা কম এবং পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তিনি বলেন, এই ধরনের মেয়েরা বড় হয়ে মানসিক ও স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগে।
ফোর বলেন, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর মধ্যে ক্ষুধা, শিশু শ্রম এবং বাল্যবিবাহের ঝুঁকি কিছুটা কমানোর জন্য ইউনিসেফ একটি নগদ সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছে।
তিনি বলেন, সংগঠনটি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রচেষ্টা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে এবং অল্পবয়সী মেয়েদের বিয়ে বন্ধ করার জন্য ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করছে।
আফগানিস্তানে শুধু চলতি বছরে প্রায় ৭ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানা গেছে। সামগ্রিকভাবে গত কয়েক দশক ধরে চলা সংঘাতে ৩৫ লাখেরও বেশি আফগান তাদের বাড়িঘর থেকে উৎখাত হয়েছে।
গত ১৫ আগস্ট আশরাফ ঘানির নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটিয়ে তালেবানরা দেশটির ক্ষমতা দখল করার পর থেকে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বের কোনো দেশ এখনো তালেবানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। মানবাধিকার ও নারী অধিকার বিষয়ে তালেবানরা বিশ্ব সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জন করতে পারেনি।