স্টাফ রিপোর্টার, নয়াদিল্লি, ৭ নভেম্বর।। রবিবার দিল্লিতে বসেছিল বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক। এই বৈঠকে কংগ্রেসের নাম না করে শতাব্দী প্রাচীন এই দলকে তীব্র কটাক্ষ করলেন বিশ্বের জনপ্রিয় নেতা তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বললেন, বিজেপি কখনওই পরিবারতান্ত্রিক দল নয়। একমাত্র বিজেপিতেই সমাজের একেবারে প্রান্তিক শ্রেণীর মানুষও শীর্ষস্থানে আসতে পারেন।
রবিবারই গ্লোবাল লিডার অ্যাপ্রুভাল রেটিং অর্থাৎ বিশ্ব নেতাদের জনপ্রিয়তার সূচক প্রকাশ হয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় দেখা গিয়েছে এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে উঠে এসেছেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি ৭০ শতাংশ মানুষের সমর্থন পেয়েছেন। মার্কিন গবেষণা সংস্থা মর্নিং কনসাল্ট এই তালিকা প্রকাশ করে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট লোপেজ ওব্রাডর। চূড়ান্ত পর্যায়ে বিশ্বের ১৩ জন নেতার মধ্যে এই সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। এই সমীক্ষায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে পিছনে ফেলে প্রথম স্থানটি দখল করেছেন মোদি।
আগামী বছরের শুরুতেই পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন সে কথা মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রী এদিন দলীয় কর্মীদের ভোকাল টনিক দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজেপি মানুষের সেবা করাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। মানুষের সেবা করাই বিজেপির ধর্ম। তাই বিজেপি কর্মীদের ওপর মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অটুট আছে। বিজেপি নেতাদের উপর মানুষের আশীর্বাদ ও ভরসা আছে বলেই আজ এই দল দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে। আগামী দিনেও মানুষের প্রতি এই আচরণ পালন করতে হবে। অর্থাৎ মানুষের আপদে-বিপদে তাঁদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
এদিনের বৈঠকে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে বিজেপি কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গেরুয়া দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের এক লাখ চার হাজার ভোটকেন্দ্রের সর্বত্র বুথ কমিটি গঠন করবে। ২০২২ সালের ৬ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ভোটার তালিকা সম্পর্কে নজর রাখার জন্য একজনকে নিয়োগ করা হবে। একইসঙ্গে ২০২২-এর মে মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন কি বাত অনুষ্ঠান যাতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রচারিত হয় সে বিষয়টিও নিশ্চিত করা হবে।
এদিনে জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকের ভাষণ দেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। অর্থমন্ত্রীও এদিন বিরোধীদের কড়া সমালোচনা করেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, গোটা বিশ্বের সামনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে প্রধানমন্ত্রী দিনরাত পরিশ্রম করে চলেছেন। কিন্তু বিরোধীরা প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সরকারের গায়ে কালি ছেটাতে চাইছেন। গোটা বিশ্ব ভারতের টিকাকরণ কর্মসূচি প্রশংসায় পঞ্চমুখ। অথচ এদেশে বিরোধীরা টিকাকরণ কর্মসূচি সম্পর্কে রীতিমতো সন্দেহ প্রকাশ করছে। কাজের নিরিখেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশ্বের জনপ্রিয়তম নেতায় পরিণত হয়েছেন। কিন্তু বিরোধীরা সেটা মানতে রাজি নয়। সে কারণেই তাঁরা মোদির নামে কুৎসা রটিয়ে চলেছেন।