অনলাইন ডেস্ক, ৮ নভেম্বর।। প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিজ্ঞানে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ খেতাব ত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির ২১ জন বিজ্ঞানী।
একটি খোলা চিঠিতে তারা প্রশাসনকে সরাসরি এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। খবর: আনন্দবাজার।
এই বিজ্ঞানীদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর সঙ্গে মতে না মিললেই কোপে পড়েন তারা।
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সাল থেকেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ‘ন্যাশনাল অর্ডার অব সায়েন্টিফিক মেরিট’ নামের এই খেতাবটি দেওয়া হয় ব্রাজিলের গবেষক ও বিজ্ঞানীদের।
গত বুধবার দেশের ২৫ জন কৃতী বিজ্ঞানী ও জাতীয় ব্যক্তিত্বকে এই খেতাবের জন্য মনোনীত করে বোলসোনারোর প্রশাসন। কিন্তু ঠিক তার দু’দিন পরেই শনিবার সেই তালিকা থেকে দুই বিজ্ঞানীর নাম বাদ দেন প্রেসিডেন্ট।
এই দুই বিজ্ঞানী হলেন- ড. মার্কাস ল্যাসার্ডা ও ড. অ্যাডেল বেনজাকেন। করোনা মহামারীর প্রাক্কালে ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করার জন্য যখন হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ওষুধটি ব্যবহারের হিড়িক উঠেছে, তখন বোলসোনারো ছিলেন সেই ওষুধের অন্যতম সমর্থক।
ওই সময়ই বিজ্ঞানী ল্যাসার্ডা একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করে জানান, কভিড মোকাবিলায় ক্লোরোকুইন জাতীয় ওষুধ কার্যকরী নয়। এর পরেই তার ওপর চটে যায় বোলসোনারো প্রশাসন।
অন্যদিকে, ২০১৯ সালে ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এইচআইভি/এইডস দপ্তরের ডিরেক্টরের পদ থেকে বরখাস্ত করা হয় বিজ্ঞানী বেনজাকেনকে। তার ‘অপরাধ’ ছিল, রূপান্তরকামীদের স্বাস্থ্য নিয়ে তার দপ্তর একটি প্যামফ্লেট প্রকাশ করেছিল।
তারপর থেকেই ডানপন্থী প্রেসিডেন্টের অপছন্দের তালিকায় তার নামও ওঠে।
আর সেই অপছন্দেরই ‘খেসারত’ হিসেবে শনিবার খেতাবের তালিকা থেকে বাদ পড়েন দুই বিজ্ঞানী। খবরটি জানা মাত্রই ২১ জন বিজ্ঞানী খেতাব ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন।
চিঠিতে তারা বলেন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও নয়া আবিষ্কারের ওপর ফের নির্লজ্জ আক্রমণ করলেন প্রেসিডেন্ট।