অনলাইন ডেস্ক, ৬ নভেম্বর।। আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় মাজার-ই-শরীফ শহরের একটি বাড়ি থেকে চার জন নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিকা এবং নারী অধিকারর্মী রয়েছেন, যার নাম ফ্রোজান সাফি। গত আগস্টে তালেবানরা ক্ষমতা দখলের পর এই প্রথম আফগানিস্তানে কোনো নারী অধিকার কর্মীকে হত্যার ঘটনা ঘটল। গুলিতে ওই নারীর শরীর পুরোপুরি ঝাঝরা করে দেওয়া হয়।
‘আমরা তাকে তার পোশাক দেখে চিনতে পেরেছি। বুলেট তার চেহারা নষ্ট করে দিয়েছে,’ বলেছেন সাফির বোন রিতা, যিনি একজন চিকিৎসক।
‘তার মাথায়, হৃদপিন্ড, বুকে, কিডনি এবং পায়ে অসংখ্য গুলির ক্ষত ছিল, যা গণনা করার মতো নয়, এতো বেশি। তার বাগদানের আংটি এবং ব্যাগ দুটোই নিয়ে গেছে,’ যোগ করেন রিতা।
ওই চার নারীকে হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুইজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তালেবানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কারি সায়েদ খোস্তি।
তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই দুই ব্যক্তি ওই নারীদের সেই বাড়িতে ডেকে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে তদন্ত শুরু হয়েছে। আটকদের আদালতে তোলা হয়েছে। খোস্তি নিহতদের পরিচয় জানাননি।
তবে মাজার-ই-শরীফের এক সূত্র ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ফ্রোজান সাফি নামে একজন নারী অধিকারকর্মী এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিকা রয়েছেন।
মাজার-ই-শরীফের তিনটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছেন, তারা শুনেছেন যে ওই নারীরা একটি ফোন কল পেয়েছিলেন। কেউ হয়তো তাদেরকে উদ্ধার ফ্লাইটে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তাদেরকে আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করার কথা বলেছিল। এরপর একটি গাড়িতে করে তাদের তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু পরে তাদের মরদেহ পাওয়া যায়।