অনলাইন ডেস্ক, ৫ নভেম্বর।। ইউরোপ ফের কভিডের এপিসেন্টার বা কেন্দ্র হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ইউরোপের প্রধান হ্যানস ক্লুগে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন তিনি।
হ্যানস জানান, ইউরোপের দেশগুলো করোনার সঙ্গে লড়াই করার জন্য মাঝে অনেক দিন সময় পেয়েছিল। কিন্তু তারা সেই সুযোগ নষ্ট করেছে।
যেভাবে টিকাকরণ করা উচিত ছিল, তা তারা করতে পারেনি।
প্রাপ্ত তথ্য বলছে, এখনো পর্যন্ত স্পেনে সবচেয়ে বেশি টিকা দেওয়া হয়েছে। ৮০ শতাংশ মানুষ দুটি টিকার ডোজ পেয়ে গেছে। কিন্তু জার্মানি ও ফ্রান্সে এ সংখ্যা অনেক কম। জার্মানিতে দুটি ডোজ পেয়েছেন ৬৬ শতাংশ মানুষ। ফ্রান্সে ৬৮ শতাংশ মানুষ।
ডব্লিউএইচও-র মতে, গত কয়েক মাসে টিকা দেওয়ার গতি মন্থর হওয়াতেই নতুন করে করোনার ঢেউ আছড়ে পড়েছে ইউরোপে।
রাশিয়ায় টিকাদানের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। মাত্র ৩২ শতাংশ মানুষ সেখানে দুটি টিকা পেয়েছেন।
স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, একদিকে টিকাকরণের গতি মন্থর, অন্যদিকে দেশগুলো জীবনযাপন কার্যত স্বাভাবিক করে দিয়েছে। দুইয়ের ফল চতুর্থ ঢেউ।
মোট ৫৩টি দেশ নিয়ে ডব্লিউএইচও-র ইউরোপীয় জোন। এর মধ্যে কয়েকটি মধ্য এশিয়ার দেশও আছে। সেখানেও পরিস্থিতি ভয়াবহ বলে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে ফেব্রুয়ারির মধ্যে আরও ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে।
ইউরোপে সংক্রমণ চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। যুক্তরাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ৩৭ হাজার ও জার্মানিতে ৩৪ হাজার মানুষ। গত কিছুদিনে রাশিয়ায় আট হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ইউক্রেনে মারা গেছেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ। ইউক্রেনে গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমিত হয়েছেন ২৭ হাজার ৩৭৭ জন।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে গোটা ইউরোপেই সংক্রমণের সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী। গত কয়েক সপ্তাহে সব মিলিয়ে ৫৫ শতাংশ সংক্রমণ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফের লকডাউন হতে পারে বলেও মনে করছেন কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ। টিকাকরণে আরও গতি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।