অনলাইন ডেস্ক, ৩১ অক্টোবর।। তালেবানরা শনিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশগুলোর কাছে আফগানিস্তানে তাদের সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছে যে, অস্বীকৃত অব্যাহত থাকলে এবং বিদেশে আফগানিস্তানের অর্থ আটকে রাখলে তা কেবল তাদের দেশের জন্য নয়, বিশ্বের জন্যও সমস্যা সৃষ্টি করবে। গত ১৫ আগস্ট তালেবানরা আফগানিস্তানের দখল নেওয়ার পর থেকে কোনো দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবানকে স্বীকৃতি দেয়নি।
এ ছাড়া দেশটি গুরুতর অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটের মুখোমুখি হলেও বিদেশে কোটি কোটি ডলারের আফগান সম্পদ এবং নগদ অর্থও আটকে রাখা হয়েছে। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সাংবাদিকদের বলেন, আমেরিকার প্রতি আমাদের বার্তা হল, যদি অস্বীকৃতি অব্যাহত থাকে, আফগান সমস্যা অব্যাহত থাকে, তাহলে তা এই অঞ্চল সহ পুরো বিশ্বের জন্যই সমস্যায় পরিণত হতে পারে।
তিনি বলেন, গতবার তালেবান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে যাওয়ার কারণও ছিল এই দুই পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিল না। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কের টুইন টাওয়ারে হামলার পর তৎকালীন তালেবান সরকার জঙ্গি গোষ্ঠী আল-কায়েদার প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে হস্তান্তর করতে অস্বীকার করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সে বছরই আফগানিস্তান আক্রমণ করেছিল।
মুজাহিদ বলেন, ‘যে সমস্যাগুলো যুদ্ধের কারণ হয়েছে, সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেত, রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমেও সেগুলোর সমাধান করা যেত। কোনো দেশ এখনো আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। তবে বেশ কয়েকটি দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কাবুল এবং বিদেশে তালেবান নেতৃত্বের সঙ্গে প্রকাশ্য বৈঠক করেছেন। সর্বশেষ তুর্কমেনিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাসিত মেরেডো আফগানিস্তান সফর করেছেন, যিনি শনিবার কাবুলে ছিলেন।
মুজাহিদ টুইটারে আগে বলেছিলেন, দুই পক্ষ তুর্কমেনিস্তান-আফগানিস্তান-পাকিস্তান-ভারত (TAPI) গ্যাস পাইপলাইনের দ্রুত বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করেছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই গত সপ্তাহে কাতারে তালেবান কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। মুজাহিদ শনিবার বলেন যে, চীন আফগানিস্তানের পরিবহন অবকাঠামোতে অর্থায়ন করার এবং প্রতিবেশী পাকিস্তানের মাধ্যমে কাবুলের রপ্তানি পণ্যকে চীনা বাজারে প্রবেশাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।