স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২৬ অক্টোবর।। আজ রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘ত্রিপুরা ডাটা সেন্টার পলিসি-২০২১’ অনুমোদন করা হয়েছে। এছাড়াও আজকের বৈঠকে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সন্ধ্যায় মহাকরণে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী মন্ত্রিসভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ ব্যাখ্যা করেন।
তিনি বলেন, রাজ্যের বেকারদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে এই নীতি অনুমোদন করেছে রাজ্য সরকার। এর ফলে বহিরাজ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত তথ্য ও প্রযুক্তি সংস্থাগুলি রাজ্যে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আকৃষ্ট হবে। সংস্থাগুলি যদি রাজা ডাটা সেন্টার তৈরী করতে চায় রাজ্য সরকার যে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলে মন্ত্রী জানান।
আজ রাজ্য মন্ত্রিসভায় শিক্ষা দপ্তরের অধীনে যে সমস্ত বিদ্যালয় অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে সেই সমস্ত বিদ্যালয়সমূহগুলিতে দেশের নামিদামি প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগের জন্য এক্সপ্রেশান অব ইন্টারেস্ট আহ্বান করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এরফলে রাজ্যে গুণগত শিক্ষা বৃদ্ধি পাবে। তিনি জানান, বছরে দুবার সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে কোন কোন বিদ্যালয় অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে তা চিহ্নিত করা হবে। পাশাপাশি দপ্তরের প্রদত্ত নিয়মাবলির যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই অব্যবহৃত বিদ্যালয়গুলি ব্যবহার করার সুযোগ পাবে।
এই বিদ্যালয়গুলি পরিচালনার ক্ষেত্রে সম্পূর্ন ব্যয়ভার বহন করবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলে মন্ত্রী জানান। রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে আজ মিশন ১০০ অন্তর্গত বিদ্যা জ্যোতি স্কুল প্রকল্প চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে রাজ্যের ৮টি জেলা থেকে হাই এবং হায়ার সেকেন্ডারী লেভেলের ১০০টি বিদ্যালয়কে চিহ্নিত করা হবে।
এই বিদ্যালয়গুলিকে সমস্ত রকম সুযোগ সুবিধা প্রদান করে সেন্টার অব এক্সিলেন্সের আওতায় আনা হবে। এরফলে রাজ্যে শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধির পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীরা উপকৃত হবেন বলে তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী জানান। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তক্রমে আজ রাজা শিক্ষা দপ্তরের অধীন এসসিইআরটি-র নিয়োগ নীতি পরিবর্ধনকরে এসসিইআরটিতে পূর্ণ সময়ের জন্য ডিরেক্টর পদে নিযুক্ত দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
তাছাড়া এদিনের মন্ত্রিসভায় সমবায় দপ্তরের অধীনে ১টি জয়েন্ট রেজিস্ট্রার অব কো-অপারেটিভ সোসাইটিস পদ সৃষ্টি করা সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পাশাপাশি ডা. রামেশ্বর দাস যিনি বর্তমানে ত্রিপুরা ফরেষ্ট ডেভেলপমেন্ট এন্ড প্ল্যান্টেশন কর্পোরেশন লিমিটেডের ম্যানেজার ডিরেক্টর পদে রয়েছেন তাঁর চাকুরীর মেয়াদ ১ বছর বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তাছাড়াও স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অধীন বিনয় পান্ডে সাবজেলার তাঁর চাকুরীর মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানো হয়েছে। তিনি আরও জানান স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অধীন স্টেট ফরেনসিক্স সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার এবং লাই ডিটেকশন ডিভিশন গ্রুপ-এ গেজেটেড দুটি পদ যেগুলি অবলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তক্রমে এই পদ দুটি পুনরায় সৃষ্টি করা হয়েছে।
রাজ্য মন্ত্রিসভায় গৃহীত অন্যতম সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে জনশক্তি ও কর্মবিনিয়োগ দপ্তরের অধীন জয়েন্ট রিক্রুটমেন্ট বোর্ড অব ত্রিপুরার কার্যকালের মেয়াদ এক বছর বৃদ্ধি করা হয়েছে। তথ্যমন্ত্রী শ্রী চৌধুরী জানান, আগামী নভেম্বর মাসে জে আর বি টি’র কার্যকালের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।
যেহেতু জে আর বি টি গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি স্তরে নিয়োগের জন্য পরীক্ষাপর্ব সম্পন্ন করেছে এবং অন্যদিকে পুর নির্বাচনের কারণে এই পরীক্ষায় বাছাই প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হতে পারে তার জন্য আগামী এক বছর পর্যন্ত জে আর বি টি’র কার্যকাল বাড়ানো হয়েছে। আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজ্যের কোভিড পরিস্থিতি নিয়েও পর্যালোচনা করা হয় এবং বর্তমান অবস্থার নিরিখে সন্তোষ ব্যক্ত করা হয়। তথ্যমন্ত্রী শ্রী চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, রাজ্যে বর্তমানে অ্যাক্টিভ কোভিড রোগীর সংখ্যা ১১০।
এর মধ্যে আগরতলা সরকারী মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন ৪ জন এবং হোম আইসোলেশনে রয়েছে ১০৬ জন। রাজ্যে মোট কোভিড টিকাকরণ এখন পর্যন্ত হয়েছে ৪০ লক্ষ ৫১ হাজার ৩০ জনের। এর মধ্যে প্রথম ডোজ ২৫ লক্ষ ৪ হাজার ৩২৭ জনকে এবং দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে ১৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৭০৩ জনকে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজীর দুরদর্শিতা এবং মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে রাজ্যে কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং টিকাকরণ পর্ব সম্পন্ন হচ্ছে বলে তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী শ্রী চৌধুরী অভিমত ব্যক্ত করেন।