অনলাইন ডেস্ক, ২২ অক্টোবর।। এক মার্কিন বিচারক বলেছেন, কিউবার কুখ্যাত গুয়ানতানামো বে কারাগারে বন্দী এক আফগান নাগরিককে রাখার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। আল জাজিরাকে এ তথ্য দিয়েছে আসাদুল্লাহ হারুন গুল নামের ওই ব্যক্তির আইনজীবী।
২০০৭ সালের জুন থেকে গুয়ানতানামোয় আছেন গুল। এর আগে তাকে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় শহর জালালাবাদ থেকে আটক করা হয়, পরে মার্কিন সেনাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
হ্যাবিয়াস কর্পাস আবেদনের ওপর রায় দিতে গিয়ে জেলা জজ অমিত মেহতা ওই ব্যক্তিকে আটকে রাখার পক্ষে মার্কিন সরকারের যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন।
একটি আইনি পরামর্শক গ্রুপ জানায়, কোনো অভিযোগ ছাড়াই গত ১৪ বছর ধরে গুয়ানতানামোয় আছেন গুল। তাকে প্রথম ৯ বছর আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। ২০১৬ সালে তার আইনজীবী ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল কোর্টে বেআইনিভাবে আটকে রাখার বিরুদ্ধে পিটিশন দাখিল করেন।
রায়ের বিস্তারিত গোপন রাখা হলেও আসাদুল্লাহ হারুন গুলের আইনজীবী বলেন, ফলাফল স্পষ্ট। তাকে মুক্তি দিতে হবে।
হ্যাবিয়াস কর্পাস হলো ব্রিটিশ ও মার্কিন অভিন্ন আইনের শতাব্দী প্রাচীন নীতি। যেখানে ভুলভাবে কারাবন্দী ব্যক্তিদের আটকের ভিত্তিকে চ্যালেঞ্জ করার অনুমতি দেয়।
২০০৮ সালে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে বলা হয়, গুয়ানতানামো বে কারাগারে আটক বন্দীরা হ্যাবিয়াস কর্পাসের অধীনে আবেদন করতে পারবেন। আর গত দশ বছরের মধ্যে প্রথমবার এই আইনে কোনো বন্দী জয়ী হলেন।
হেজব-ই-ইসলামি বা ইসলামিক পার্টি অব আফগানিস্তানের সদস্য ছিলেন গুল। দলটি ২০১৬ সালে পশ্চিমা সমর্থিত আফগান সরকারের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করে। গুলের আইনজীবীর যুক্তি ছিল, যেহেতু দলটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতা নেই, তাকে মুক্তি দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু সেই যুক্তি খারিজ হয়ে যায়।
আসাদুল্লাহ হারুন গুল কখনো তালেবান বা আল-কায়েদা বা দল দুটি সংশ্লিষ্ট বা মার্কিনদের সঙ্গে লড়ছে এখন কোনো পক্ষের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তিনি জানান, ব্যবসায়িক কারণে পাকিস্তানের উদ্বাস্তু শিবির থেকে আফগানিস্তানে এসেছিলেন। যখন তাকে আটক করা হয়, তখন পরিবারের সঙ্গেই ছিলেন।
আদালতে বিচারক জানান, আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্কের কারণে গুলকে আটক রাখা যেতে পারে এমন প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে সরকারি আইনজীবী।