অনলাইন ডেস্ক, ১৯ অক্টোবর।। নারীর প্রতি সহিংসতার অন্যতম একটি নিকৃষ্ট উদাহরণ যৌন পেশা। স্পেনে এটি ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে স্পেনের প্রায় তিন লাখ নারী যৌন পেশায় জড়িত। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ২০১৯ সালে পেদ্রো সানচেজের দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে যৌন পেশাকে অবৈধ ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
যদিও নির্বাচনের দুই বছর পার হলেও এখনো দেশটিতে যৌন পেশাকে বিলোপ করার ঘোষণা সংক্রান্ত কোনো আইন পার্লামেন্টে তোলা হয়নি।
তবে, সেই প্রতিশ্রুতিকে ধরেই স্পেনে যৌন পেশা বিলোপের অঙ্গীকার করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। রবিবার তিনি ভ্যালেনসিয়ায় সোশ্যালিস্ট পার্টির তিন দিনের কংগ্রেসের সমাপনী অনুষ্ঠানে এ অঙ্গীকার করেন। খবর: বিবিসিপেদ্রো সানচেজ বলেন, এই পেশা নারীদের দাস বানায়।
২০১৬ সালে জাতিসংঘের এক হিসাবে বলা হয়, স্পেনে যৌন পেশার আর্থিক মূল্য প্রায় ৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউরো। ২০০৯ সালের একটি জরিপে দেখা যায়, তিনজন স্প্যানিশ পুরুষের মধ্যে একজন যৌনতার জন্য অর্থ প্রদান করেন। তবে ২০০৯ সালে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয় যে এ সংখ্যা ৩৯ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
জাতিসংঘের ২০১১ সালের এক গবেষণায় বিশ্বে যৌন পেশার তৃতীয় বৃহত্তম কেন্দ্র হিসেবে স্পেনের নাম উঠে আসে। এ তালিকায় প্রথমে রয়েছে থাইল্যান্ড, দ্বিতীয় পুয়ের্তো রিকো।
স্পেনে বর্তমানে অনেকটা অনিয়ন্ত্রিতভাবে যৌন পেশা পরিচালিত হচ্ছে। স্পেনে প্রায় তিন লাখ নারী যৌন পেশায় জড়িত বলে ধারণা করা হয়।
পেদ্রো সানচেজের দলের নির্বাচনী ইশতেহারে নারীদের যৌন পেশায় আসার বিষয়কে দারিদ্র্যের অন্যতম নিষ্ঠুর দিক হিসেবে অভিহিত করা হয়।