অনলাইন ডেস্ক, ১৩ অক্টোবর।। আফগানিস্তানে অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়াতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন বিশ্বের প্রথম সারির অর্থনীতির ২০ দেশের জোট জি-২০ নেতারা।
আফগানিস্তান পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার এই ভার্চুয়াল সম্মেলনে মিলিত হন তারা।
এতে জার্মানির বিদায়ী চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল বলেছেন, আফগানিস্তানকে বিশৃঙ্খলার দিকে যেতে দেওয়া উচিত হবে না।
তিনি দেশটির ৬০ কোটি ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, আফগানিস্তানের আর্থিক ব্যবস্থা যদি ধসে পড়ে, তাহলে সেটা কারও জন্যই ভালো কিছু বয়ে আনবে না।
তখন মানবিক সহায়তাও আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।
জার্মান চ্যান্সেলর বলেন, জাতিসংঘের সব সংস্থা যাতে আফগানিস্তানে জরুরি ত্রাণ তৎপরতা চালাতে পারে, সেই সুযোগ তালেবানকে অবশ্যই দিতে হবে। সেই সঙ্গে মানবাধিকার ও নারীর প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।
মের্কেলের কথার সুরই প্রতিধ্বনিত হয়েছে সম্মেলনের আয়োজক ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাগির কথায়।
তিনি বলেন, তালেবানের সঙ্গে জোটের দেশগুলোকে অবশ্যই যোগাযোগ রাখতে হবে। এর মানে এই নয় ওই গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডকেও জি২০ স্বীকৃতি দিচ্ছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, আফগানিস্তানকে সহায়তা করতে হবে স্বাধীন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে; ক্ষমতায় থাকা তালেবানের মাধ্যমে নয়।
মানবিক সংকট এড়াতে আফগানিস্তানের অর্থনীতিতে ৬০০ মিলিয়ন ডলার যোগানের জন্য জাতিসংঘের আহ্বানের মধ্যেই এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লাইয়েন আফগানিস্তানের জন্য ১.১৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন।
এর একটি অংশ আফগান শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া প্রতিবেশী দেশগুলোও পাবে।
প্রায় দুই দশকের মার্কিন দখলদারিত্ব অবসানের পর গত ১৫ আগস্ট কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। সেপ্টেম্বরে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে তারা। তবে সেই সরকার এখনো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি পায়নি।
আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল দেশটির জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সাহায্য সংস্থা বলছে, খরা, নগদ অর্থের স্বল্পতা ও খাবারের সঙ্কটের কারণে এখন আরও বেশি মানুষের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন।
আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে মাসে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির চালানো এক জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, ৯৩ শতাংশ আফগান টাকার অভাবে পর্যাপ্ত খাবার পাচ্ছেন না।
তালেবান ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্র দেশটির রিজার্ভ আটকে দেয়। রাজধানী কাবুলের অধিকাংশ ব্যাংক এখন নগদ অর্থের অভাবে কার্যক্রম চালাতে পারছে না। মালিকরা দেশ ছাড়ায় অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ।