স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ১০ অক্টোবর।। নাগরিক পরিষেবা প্রদানে কাজের প্রতি কর্মচারিদের দায়বদ্ধতা ও কর্মনিষ্ঠা প্রশংসনীয়। আর্থিক সঙ্গতির সাথে সাজুয্য রেখে কর্মচারিদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি সরকারের সদর্থক বিবেচনায় রয়েছে।
আজ বাধারঘাট স্পোর্টস স্কুল মাঠে বিবেকানন্দ বিচারমঞ্চ আয়োজিত রাজা সরকারের সরকারি কর্মচারিদের স্বার্থে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের জন্য আয়োজিত এক ধন্যবাদ সভায় একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী সহ প্রাথমিক পরিষেবা প্রদানের সাথে যুক্ত কর্মীরাই নাগরিক পরিষেবা প্রদানের মূল ভিত। সরকারি কর্মচারিদের মাধ্যমে জনকল্যাণে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সঠিকভাবে রূপায়িত হয়। শিক্ষক কর্মচারিরাই সরকারের মূল চালিকা শক্তি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কর্মচারিদের মিছিল, মিটিংয়ে ব্যস্ত রেখে সরকারি কাজে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করার বদলে সুস্থ কর্মসংস্কৃতি তৈরিতে গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। সমস্ত অংশের কর্মচারিদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ইতিবাচক কাজের মানসিকতা। অন্যের সমালোচনা করার বদলে নিষ্ঠার সাথে নিজের উপর ন্যস্ত দায়িত্ব প্রতিপালনে সবার প্রতি আহ্বান রাখেন মুখ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন, গ্রুপ-সি, গ্রুপ-ডি, হোমগার্ড, বিজ্ঞান শিক্ষক, সমগ্র শিক্ষার সাথে যুক্ত শিক্ষক কর্মচারিদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এডহক পদোন্নতির মাধ্যমে রাজ্য সরকারের কর্মচারিদের দীর্ঘদিন যাবৎ আটকে থাকা পদোন্নতির বিষয়টির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
কোভিড পরিস্থিতিতে কর্মচারিদের ন্যায্য বেতন প্রদানের পাশাপাশি ৩ শতাংশ ডিএ প্রদান করা হয়েছে। ৫০ বছরের উর্দ্ধে প্রয়াত কর্মচারি পরিবারকে অবসরের বয়স পর্যন্ত বেতন প্রদানের মত যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যাতে প্রয়াত কর্মচারির ছেলেমেয়ে বা পরিজনদের আকস্মিক আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হতে না হয়।
নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আসার ফলে যোগ্য প্রার্থী চয়ন করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পূজো অ্যাডভান্সের অর্ধরাশি বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের ফলে কর্মচারিগণ যেমন উপকৃত হবেন তা পরোক্ষে বাজার অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সপ্তম পে স্কেল, এলটিসি’র ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা, অধ্যাপকদের জন্য ইউজিসি স্কেল সহ কর্মচারিদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক কর্মচারিগণ রাজ্য সরকার দ্বারা সরকারি কর্মচারিদের স্বার্থে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের জন্য মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানে স্পোর্টস স্কুলের কয়েকজন ছাত্রছাত্রীর হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিনের অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমবায় মন্ত্রী রামপ্রসাদ পাল, তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, বিধায়ক মিমি মজুমদার, ত্রিপুরা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মানিক সাহা, ত্রিপুরা স্পোর্টস কাউন্সিলের সচিব অমিত রক্ষিত, বিবেকানন্দ বিচারমঞ্চের সভাপতি তথা খাদি ও গ্রামোদ্যোগ পর্ষদের চেয়ারম্যান রাজীব ভট্টাচার্য, বিবেকানন্দ বিচারমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম মজুমদার, বিবেকানন্দ বিচারমঞ্চের অন্যতম সদস্য সঞ্জয় মিশ্র প্রমুখ।