স্টাফ রিপোর্টার, বিশালগড়, ৭ অক্টোবর।। আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে হাসপাতাল থেকেই শিশু বিক্রির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। বিশালগড় মহকুমা হাসপাতাল থেকে নার্সের সহযোগিতায় একটি সদ্যজাত শিশু বিক্রির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। ৩০হাজার১ টাকায় বিশালগড় মহাকুমা হাসপাতাল থেকে বিক্রি হলো তিন দিনের এক শিশু। শিশু বিক্রি করে মন্ডল নেতার বোন স্টাফ নার্স যমুনা সাহা দালালি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ। জানা গেছে, বিশালগড় থানার অন্তর্গত উত্তর এলাকার কাজল পালের স্ত্রী সুমিত্রা পাল প্রসব ব্যথা নিয়ে গত বুধবার বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এই দিনই তিনি একটি পুত্র সন্তান প্রসব করেন। শিশুটি ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরই তাকে চোখে চোখে রাখতেন নার্স যমুনা। সুমিত্রাকে অতিরিক্ত সেবা-যত্ন করে খুব কম সময়ে তার মন কেড়ে নেন চতুর নার্স যমুনা। তিনদিন ধরে তাকে ফুঁসলিয়ে শিশুটিকে তার মায়ের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন যমুনা। বিনিময়ে দিয়েছেন ৩০ হাজার এক টাকা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে। জানা গেছে, বিশালগড় অফিস টিলার এক নব্য শাসকদলীয় নেতার বোন বহুদিন ধরে বিশালগড় হাসপাতালে সেবিকার চাকরি করছেন। জননী সুমিত্রা পাল জানান যমুনা তিনি এই হাসপাতলে নাকি বহু দিন ধরে নিযুক্ত। খুবই অভিজ্ঞ। আগেও এরকম বহু শিশু কিনে দিয়েছেন বন্ধ্যাত্ব মহিলাদের। সুমিত্রা আরো বলেন, যমুনা ভীষণভাবে তার মগজ ধোলাই করেন। তার ভাইয়ের স্ত্রী নাকি বন্ধা। কোন ছেলে মেয়ে নেই। শিশুটিকে তার কাছে বিক্রি করলে পরবর্তী সময়ে আরও মোটা অংকের টাকা দেয়ার পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও পাইয়ে দেবেন। এই বলে শুক্রবার রাতে তিন দিনের পুত্র সন্তানকে তার মায়ের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন। ঘটনার ৪ দিন পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন হতভাগা সুমিত্রা পাল। এক সাংবাদিককে ডেকে নিয়ে তিনি বিষয়টি খুলে বলেন। বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি চাউর হতেই গুঞ্জন শুরু হাসপাতালসহ গোটা অফিস টিলা এলাকায়। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশালগড় মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিক জে এম দাস জানান বিষয়টির তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত সেবিকার নামে মামলা দায়ের করা হবে বিশালগড় থানায়। এখন দেখার বিষয় হতভাগা জননী সুমিত্রা পাল তার সন্তান ফিরে পায় কিনা।৩০ হাজার ১ টাকায় হাসপাতাল থেকে তিন দিনের এক শিশু পৃথিবীর খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশালগড় মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিক জে এম দাস জানান, বিষয়টির তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত সেবিকার নামে মামলা দায়ের করা হবে বিশালগড় থানায়। এখন দেখার বিষয় হতভাগা জননী সুমিত্রা পাল তার সন্তান ফিরে পায় কিনা।
বৃহস্পতিবার চাইল্ড লাইন কর্তৃপক্ষ ও বিশালগড় মহিলা থানার পুলিশ বাড়ি থেকে মহিলাকে নিয়ে আসে বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে নার্সকে চিহ্নিত করার জন্য।এ ব্যাপারে সঠিক তদন্ত ক্রমে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।