অনলাইন ডেস্ক, ৫ অক্টোবর।। ১৯৫০ সাল থেকে শুরু করে ফ্রান্সের রোমান ক্যাথলিক গির্জায় অন্তত ২ লাখ ১৬ হাজার শিশুকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। ফ্রান্সের গির্জায় যৌন নির্যাতনের বিষয়ে তদন্তের জন্য গঠিত একটি নিরপেক্ষ কমিশনের তদন্তে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ওই কমিশন মঙ্গলবার তাদের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
তদন্ত কমিশনের প্রধান জঁ-মার্ক সোভ বলেন, পাদ্রী ছাড়া গীর্জার সাধারণ সদস্যদের হাতে যৌন নির্যাতনের শিকারদেরও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে সংখ্যাটি ৩ লাখ ৩০ হাজার পর্যন্ত বাড়তে পারে।
একজন ভুক্তভোগী এই রিপোর্টকে ফ্রান্সের ইতিহাসের একটি টার্নিং পয়েন্ট বলে অভিহিত করেছেন।
আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে মোট ১১৫,০০০ জন পাদ্রী ও অন্য গির্জা কর্মকর্তার ব্যাপারে তদন্ত চালানো হয়। রিপোর্টটি তৈরি হয়েছে চার্চ, আদালত এবং পুলিশের দলিলপত্রের আর্কাইভে পাওয়া তথ্য এবং যৌন নির্যাতনের শিকারদের সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে।
জঁ-মার্ক সোভ জানিয়েছেন, ২,৯০০ থেকে ৩,২০০ শিশু নির্যাতনকারী পাদ্রী এবং অন্যান্য যাজকদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন তারা।
কমিশনের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন ডাক্তার, ইতিহাসবিদ, সমাজবিজ্ঞানী এবং ধর্মতত্ত্ববিদরা। আড়াই বছরের মধ্যে সাড়ে ছয় হাজারেরও বেশি সাক্ষীর সাথে যোগাযোগ করা হয়।
ফ্রান্সের একজন সিনিয়র সরকারী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত জঁ-মার্ক সোভ বলেন, ২০০০-এর দশকের শুরুর দিক পর্যন্ত ক্যাথলিক গির্জা ‘যৌন নির্যাতনের শিকারদের অভিযোগের প্রতি তীব্র এবং এমনকি নিষ্ঠুর উদাসীনতা দেখিয়ে আসছিল’।
সোভ ফরাসী দৈনিক লা মঁদকে বলেছেন, তারা এমন ২২টি ঘটনার তথ্যপ্রমাণ কৌঁসুলিদের হাতে তুলে দিয়েছেন যেগুলোর ব্যাপারে এখনো ফৌজদারি পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, যৌন নির্যাতনের শিকারদের বেশিরভাগই ছিল মূলত প্রাক-কিশোর বয়সের ছেলে, যারা বিভিন্ন সামাজিক শ্রেণি থেকে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘পরিবার এবং বন্ধুদের সার্কেলের বাইরে ক্যাথলিক গির্জায়ই সবচেয়ে বেশি যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে’।
বিবিসির হিউ শোফিল্ড বলেন, গির্জার পক্ষে এই তথ্য হজম করা খুব কঠিন হবে এবং ফ্রান্সের মানুষের মুখে মুখে তা প্রচারিত হবে।
রোমান ক্যাথলিক প্রকাশনা দ্য ট্যাবলেটের ক্রিস্টোফার ল্যাম্ব বলেছেন, এই যৌন নির্যাতন কেলেংকারি ক্যাথলিক গির্জাকে গত ৫০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংকটে ফেলে দিয়েছে।
পোপ ফ্রান্সিস চলতি বছরই ক্যাথলিক চার্চের নিয়মকানুনে কিছু সংশোধনী আনেন, যাতে যৌন নিপীড়ন, শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন, শিশু পর্নোগ্রাফি এবং এসব ঘটনা ধামা-চাপা দেওয়ার চেষ্টাকে স্পষ্টভাবে অপরাধ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়।