স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২৭ সেপ্টেম্বর।। সংযুক্ত কিষাণ সংঘর্ষ মোর্চা সহ বাম দলগুলোর ডাকা দেশব্যাপী ধর্মঘটে রাজ্যে মিশ্র সাড়া পরিলক্ষিত হয়েছে। সংযুক্ত কিষান সংঘর্ষ মোর্চার রাজ্য সম্পাদক পবিত্র কর দাবি করেছেন ধর্মঘট সর্বাত্মক সফল হয়েছে।
কৃষি আইন বাতিল, বিদ্যুৎ বিল প্রত্যাহার, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য অন্যান্য দাবিতে দেশব্যাপী ২৪ ঘন্টা ধর্মঘটে রাজ্যে মিশ্র সারা পরিলক্ষিত হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে সরকারি অফিস স্কুল কলেজ খোলা থাকলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি পুরোপুরি বন্ধ ছিল।
রাস্তায় যান চলাচল অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক কম ছিল। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক পবিত্র কর বলেন, সকালে সামান্য কিছু সংখ্যক অটো রাস্তায় বেরিয়েছিল। তারা বলেছে ভারতীয় মজদুর সংঘ তাদেরকে রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে। অটো নিয়ে রাস্তায় না বের হলে লাইন আউট করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। আই এস বি টি থেকে কোন ধরনের যানবাহন চলাচল করেনি। শহরের দোকানপাট খোলেনি বললেই চলে।
বড়জোর ২ শতাংশ দোকানপাট খুলেছে বলে তিনি দাবি করেছেন।রাজধানী আগরতলা শহর ছাড়া ও রাজ্যের অন্যান্য মহাকুমা গুলি থেকে যে খবর মিলেছে তাতে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধর্মঘট সফল করেছেন বলে দাবি করেছেন পবিত্র বাবু।কেন্দ্রীয় সরকার যতদিন পর্যন্ত কৃষি বিরোধী আইন প্রত্যাহার করে না নেবে ততদিন পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
সোমবার ছিল তেলিয়ামুড়া হাটবার। এই হাটবারে দিনে তেলিয়ামুড়ার জনজীবন ছিল স্বাভাবিক ছন্দে। ছোট বড় যান চলাচল ছিল এদিন স্বাভাবিক। এবং সমস্ত প্রকার দোকানপাট-ই ছিল খোলা। এদিকে প্রশাসনের তরফ থেকে আটো-সাটো নিরাপত্তা ব্যাবস্থা ছিল।
ভারত বন্ধের প্রভাব সম্পর্কে সি.পি.আই.এম তেলিয়ামুড়া মহকুমা কমিটির সম্পাদক হেমন্তকুমার জমাতিয়া জানান,, সি.পি.আই.এম দলের পক্ষ থেকে সর্বসম্মতক্রমে যাতে বন্ধ সফল হয় তার জন্য সকলের কাছে অনুরোধ রেখেছে। তিনি আরো জানান, বর্তমান রাজ্য রাজনীতি অবস্থার দিক বিচার-বিবেচনা করে সি.পি.আই.এম দলের পক্ষ থেকে কোন প্রকার পিকেটিং করা হয়নি। দলের পক্ষ থেকে কাউকে জোর করে লাঠি পেটা করে দোকান বন্ধ করতে বলেনি। যারা এই বন্ধ-কে সমর্থন করবে তারা আজকের এই ভারত বন্ধ মানবে।
তবে আজকে দিনে ছোট ছোট যানচলাচল অনেক কম। অপরদিকে, এই ভারত বন্ধের বিরোধিতা করে প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করতে গিয়ে তেলিয়ামুড়া মন্ডল সভাপতি রঞ্জিত সূত্রধর বলেন,, যারা বনধ ডেকেছে তাদের বনধ ব্যার্থ হয়েছে। সারা তেলিয়ামুড়া জনজীবন সর্বাত্মক স্বাভাবিক চলছে। অফিস-আদালত;দোকান-পট সব কিছুই খোলা। এই কর্মনাশা সর্বনাশা বনধ কে জনগণ ব্যার্থ করে দিয়েছে।
সংযুক্ত কিষান মোর্চার ডাকা ভারত বন্ধের মিশ্র সাড়া পড়ল ধলাই জেলা সদর আমবাসায়। এদিন রাস্তাঘাটে গাড়ি ঘোড়া অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেকাংশে কম ছিল। দোকানপাট কিছু খোলা থাকলেও একটা অংশের দোকানপাট ছিল বন্ধ। মানুষের আনাগোনা অন্যান্য দিনের তুলনায় কিছুটা কম ছিল।
কিন্তু স্কুলগুলির পঠন-পাঠন ছিল স্বাভাবিক অপরদিকে অফিস-আদালত, ব্যাংক ইত্যাদি সবই ছিল খোলা। তবে বনধকে কেন্দ্র করে সর্বত্রই ছিল পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা।
তবে বামেদের পক্ষ থেকে কোনো পিকেটিং করা হয়নি। এক সাক্ষাৎকারে সিপিআই (এম) আমবাসা মহকুমা কমিটির সম্পাদক বিজন পাল জানান উনারা পার্টির পক্ষ থেকে সর্বত্রই এই বন্ধের প্রচার নিয়ে গেছেন। মানুষ তাতে সাড়া দিয়েছেন। তবে দলীয় ভাবে উনারা কোথাও কোন ধরনের পিকেটিং করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাই কোথাও পিকেটিং হয়নি তবে মানুষ বন্ধে সাড়া দিয়েছেন।
ঊনকোটি জেলার সর্বত্রই বনধে সাড়া মিলেছে। বনধকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা সংঘটিত হয় সকাল থেকেই পর্যাপ্ত পরিমাণ পুলিশ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়।
সংযুক্ত কিষান মোর্চার ডাকা ভারত বন্ধের মিশ্র প্রভাব পড়েছে কৈলাসহর মহকুমায়। সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও ব্যাংকের শাখা গুলি খোলা হলেও সাধারন ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বাজার গুলি ছিল কার্যত বন্ধ। সরকারি কর্মচারী ব্যতীত রাস্তাঘাটে সাধারন নাগরিকদের যাতায়াত ছিল না বললেই চলে।
মোটর স্ট্যান্ড সহ অন্যান্য জায়গায় সল্প মাত্রায় যানবাহন থাকলেও যাত্রী নেই। বন্ধের সমর্থনে পূর্বে একাধিক কর্মসূচি হাতে নিলেও গতকাল রবিবার ও আজ বন্ধের সমর্থনে কোন ধরনের পিকেটিং বা প্রচার করেনি সংযুক্ত কিষান মোর্চা। তবে বন্ধের বিরোধিতা করে গতকাল থেকে জোরদার প্রতিবাদ কর্মসূচি ও পিকেটিং করছে শাসকদল ভারতীয় জনতা পার্টি।
বন্ধের সমর্থনে পিকেটিং না হলেও এই বনধকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রোখার জন্য প্রচুর পরিমাণে নিরাপত্তা রক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে গোটা কৈলাসহর মহাকুমা জুড়ে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যালয়, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা গুলোতে প্রচুর সংখ্যায় টি এস আর বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
বন্ধের বিরোধিতায় পিকেটিংরত শাসক দলের প্রদেশ কমিটির সদস্য বিমল কর সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয় জানান, বনধ পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষকে চলাচলের ক্ষেত্রে প্রত্যেকের স্বাধীনতা রয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন যে, বনধ সমর্থনকারীদের উশৃংখলতার ভয়ে সাধারণ নাগরিকরা ঘর থেকে বের হচ্ছেন না ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা হচ্ছে না।
সম্পূর্ণ ঊনকোটি জেলায় বনধ সর্বাত্মক সফল হয়েছে বলে অভিমত সি.পি.আই.এম ঊনকোটি জেলা সম্পাদক কৃষ্ণেন্দু চৌধুরীর। তিনি জানান, সাধারণ অংশের নাগরিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই বনধের সমর্থনের সাড়া দিয়েছে।