স্টাফ রিপোর্টার, পানিসাগর, ২৭ সেপ্টেম্বর।।
পানিসাগর থানাধীন কৃষ্ণপুর এলাকায় অবস্থিত রামকৃষ্ণ পেট্রোলিয়াম এজেন্সির বিরুদ্ধে পরিমাপে কম দিয়ে গ্রাহক ঠকানোর অভিযোগ নিয়ে যানবাহন চালক ও এলাকার গ্রাহকরা পেট্রোল পাম্প ঘেরাও করেন৷ বাকবিতণ্ডায় উত্তাল হয়ে উঠে পাম্পচত্বর৷
গ্রাহকদের অভিযোগ, এই পেট্রোল পাম্প দীর্ঘদিন যাবৎ পরিমাপে কম দিয়ে যান চালক থেকে শুরু করে গ্রামীণ কৃষকদের ঠকাচ্ছে৷ এই অভিযোগ, দীর্ঘদিনের হলেও প্রতিবাদ জানিয়ে কোন সুরাহা পায়নি ক্রেতা সাধারণ৷ যান চালক থেকে গ্রামীণ এলাকার কৃষকদের অভিযোগ, পেট্রোল পাম্পের মালিকের ছেলে শাসকদলীয় নেতা হবার সুবাদে কারোর কোন অভিযোগকে পাত্তা দেয় না৷
যতবার এই ধরনের প্রতিবাদ হয় ততবারই এলাকার কতিপয় দুর্বৃত্তদের লেলিয়ে দিয়ে প্রতিবাদ স্তব্ধ করে দেয়৷ যার ফলে পাম্প থেকে গ্রাহকরা পেট্রোল ডিজেল, ন্যায্য দাম নিয়ে কিনলেও সঠিক পরিমাণে পাচ্ছে না৷ প্রতিবাদও করতে সাহস পাচ্ছে না৷
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে রবিবার রাতে একজন বাইক চালক এই রামকৃষ্ণ পেট্রোল পাম্প থেকে ১৮০ টাকার পেট্রোল বোতলে করে কিনতে গেলে দেখা দেয় যত বিপত্তি৷ প্রথমে ১৮০ টাকার পেট্রোল ক্রয় করার পর বোতল ভর্তি না হওয়াতে গ্রাহক আরও কুড়ি টাকার পেট্রোল ক্রয় করেন৷ তাতেও ২ লিটারের বোতল ভর্তি না হওয়াতে স্বাভাবতই গ্রাহক প্রতিবাদ করে৷
প্রতিবাদ করায় একটাসময় পাম্পে তেল নিতে আসা যান চালকরা একে একে জড়ো হতে থাকে৷ সকলের সম্মিলিত প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে পাম্প চত্বর৷ খবর যায় পানিসাগর থানায়৷ খবর পাওয়া মাত্র ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পানিসাগর থানার পুলিশ৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেও উত্তেজিত জনতাকে সামাল দিতে হিমসিম খায়৷
এদিকে রাত গড়িয়ে গেলেও গ্রাহক ঠকানোর অভিযোগে প্রতিবাদে পেট্রোল পাম্প চত্বর উত্তাল হয়ে উঠলে একটা সময় পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে৷ পরবর্তী সময়ে পাম্প মালিকের ছেলে শাসক দলের নেতা হওয়ার সুবাদে এলাকার কতিপয় দুর্বৃত্তদের নিয়ে এসে প্রতিবাদী গ্রাহকদের উপর চড়াও হয়৷
শুরু হয় মারামারি৷ দুর্বৃত্তদের আঘাতে বেশ কয়েকজন গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন৷ মালিকপক্ষের দুর্বৃত্তরা প্রতিবাদীদের আক্রান্ত করেও ক্ষান্ত থাকেনি৷ অনেক প্রতিবাদী গ্রাহককে বাড়ি থেকে তুলে এনে পেটাই করা হবে বলে হুমকি দিতে শুরু করে বলে অভিযোগ৷
এদিকে ঘটনাস্থলে মালিকপক্ষের দুর্বৃত্তদের এহেন ঘটনা প্রত্যক্ষ করে ও কোন প্রকার পদক্ষেপ পুলিশ গ্রহণ না করাতে জনমনে পুলিশি ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ণ ওঠে৷ দাবি উঠেছে অবিলম্বে পেট্রোল পাম্পটি বন্ধ করে দেওয়ার৷