স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২৪ সেপ্টেম্বর।। বিধায়ক রতন চক্রবর্তী আজ রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষ হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ছাড়া অন্য কেউ এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। আজ সভার অধিবেশন শুরু হলে উপাধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেন ঘোষণা করেন অধ্যক্ষ হিসেবে রতন চক্রবর্তীর সমর্থনে তিনটি প্রস্তাব জমা পড়েছে।
একটি প্রস্তাব পেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব এবং তা সমর্থন করেন রাজস্ব মন্ত্রী এন সি দেববর্মা। আরেকটি প্রস্তাব পেশ করেন উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা এবং তা সমর্থন করেন মৎস্যমন্ত্রী মেবার কুমার জমাতিয়া। অন্য আরেকটি প্রস্তাব পেশ করেন আইনমন্ত্রী রতনলাল নাথ এবং তা সমর্থন করেন বিধানসভায় সরকারি মুখ্যসচেতক বিধায়ক কল্যাণী রায়। সভায় আইনমন্ত্রী রতনলাল নাথ প্রস্তাবটি পড়ে শোনান।
এরপর প্রথামাফিক মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব, উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা, রাজস্বমন্ত্রী এন সি দেববর্মা, মৎস্যমন্ত্রী মেবার কুমার জমাতিয়া, বিধায়ক রামপদ জমাতিয়া, রতন চক্রবর্তীকে অধ্যক্ষের আসন পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে যান। অধ্যক্ষ পদে আসীন হয়ে রতন চক্রবর্তী অধ্যক্ষ পদে তাকে নির্বাচন করায় সবাইকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানান।
তিনি বলেন, অধ্যক্ষ পদটি সংসদীয় গণতন্ত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহ্যমন্ডিত। আন্তরিকতার সঙ্গে এই দায়িত্ব তিনি পালন করবেন বলে উল্লেখ করে বলেন, সবাইকে সমদৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হবে। যে সমস্ত বিষয়ে বিধানসভায় আলোচনা হবে তা গঠনমূলক হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বিধানসভার ঐতিহ্যবাহী গৌরবকে অক্ষুন্ন রাখার ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
বিধানসভার মূল্যবান আলোচনার মধ্য দিয়ে রাজ্যবাসীর আশা আকাঙ্খা পূরণ হবে বলে আশা প্রকাশ করে নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ রতন চক্রবর্তী বলেন, বিধানসভায় আলোচনা যত বেশি গঠনমূলক হবে ততবেশি রাজ্যের মানুষ তার সুফল পাবেন। পরিষদীয় গণতন্ত্রের সুমহান মর্যাদাকে বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই সভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নবনিযুক্ত অধ্যক্ষকে স্বাগত জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন, আইনসভা হচ্ছে গণতন্ত্রের পীঠস্থান। অধ্যক্ষ শ্রী চক্রবর্তী তার অভিজ্ঞতা, বিচক্ষণতাকে কাজে লাগিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও সমৃদ্ধ করবেন বলে মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
আজকের দিনটিকে বিধানসভার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক হিসেবে অভিহিত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিধানসভায় গঠনমূলক আলোচনাই কাম্য। এখানে সরকারের কর্মসূচি নিয়ে যেমন আলোচনা হয়ে থাকে তেমনি বিরোধীরাও বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। নবনিযুক্ত অধ্যক্ষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা তার কর্মজীবনে প্রতিফলিত হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন।
সভা পরিচালনার ক্ষেত্রে অধ্যক্ষকে সব ধরনের সহায়তা করা হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন। অধ্যক্ষ পদে রতন চক্রবর্তীকে স্বাগত জানিয়ে বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার বলেন, সভা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে প্রথা ও পদ্ধতি অনুযায়ী সমস্ত সহযোগিতা করা হবে।