স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২২ সেপ্টেম্বর।। আগামীকাল বিধানসভার অধ্যক্ষ পদে নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা করতে চলেছেন খয়েরপুরের বিধায়ক রতন চক্রবর্তী৷ কংগ্রেস-টিইউজেএস সরকারের সময় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন রতন চক্রবর্তী৷ এছাড়া বিধায়ক হিসেবেও বিধানসভায় তাঁকে প্রাজ্ঞ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়৷ যদিও অধ্যক্ষ পদের আশায় ছিলেন বর্তমান উপাধ্যক্ষ সহ আরো কয়েকজন৷ কিন্তু দল শ্রী চক্রবর্তী’র উপরই বিশ্বাস রেখেছে৷ এই অবস্থায় জানা গেছে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অধ্যক্ষ হিসেবে নির্বাচিত হতে চলেছেন তিনি৷
বৃহস্পতিবার বারবেলার আগেই তিনি বিধানসভার সচিব বিষ্ণুপদ কর্মকারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা করবেন বলে খবর৷ যদি অন্য কোনো মনোনয়নপত্র জমা না পড়ে তবে পরের দিন অর্থাৎ শুক্রবার বিধানসভা অধিবেশনের শুরুতেই অধ্যক্ষ পদে তাঁর নাম ঘোষণা করবেন উপাধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেন৷ যদি সবকিছু ঠিকঠাক মতো হয় এরপর থেকে রতন চক্রবর্তীই হবেন ত্রিপুরা বিধানসভার চতুর্দশ অধ্যক্ষ৷
ত্রিপুরা বিধানসভায় এই পর্যন্ত ১০ জন অধ্যক্ষ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন৷ ১৯৭৮ সালে তৎকালীন বিধায়ক সুধন্বা দেববর্মা ও রতিমোহন জমাতিয়া অধ্যক্ষ পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন৷ যদিও নির্দিষ্ট সময়ে মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়াতে রতিমোহন জমাতিয়ার মনোনয়নপত্রটি বাতিল হয়ে যায়৷ এর ফলে কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রথম বাম সরকারের সময় অধ্যক্ষ পদে আসীন হয়েছিলেন সুধন্বা দেববর্মা৷
এরপর ১৯৮৮ সালে কংগ্রেস-টিইউজেএস জোট সরকার ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর অধ্যক্ষ পদে কার্যত রাজ্যে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়৷ ওই সময় মনোনয়নপত্র জমা করেছিলেন বিধায়ক জ্যোতির্ময় নাথ ও বিমল সিন্হা৷ যদিও সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন কংগ্রেস বিধায়ক জ্যোতির্ময় নাথ৷ এরপর তৃতীয় ও চতুর্থ বামফ্রন্ট সরকারের শাসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি৷
পরে ১৯৯৮ সালে মানিক সরকার যখন প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন তখন অধ্যক্ষ পদে মনোনয়ন জমা করেছিলেন সিপিএমের জিতেন সরকার ও কংগ্রেসের প্রকাশ চন্দ্র দাস৷ প্রত্যাশিতভাবেই সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে সেবার অধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছিলেন জিতেন সরকার৷
এরপর ২০০৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ফের বামফ্রন্ট সরকার জয়ী হওয়ার পর অধ্যক্ষ পদে দুইজন মনোনয়নপত্র জমা করেছিলেন৷ তারা হলেন রমেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ ও কাজল চন্দ্র দাস৷ বাম বিধায়ক রমেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথই সেই সময় অধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত হয়ে ২০১৮ পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেছেন৷
রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হবার পর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অধ্যক্ষ হয়ে রেবতী মোহন দাস সম্প্রতি পদত্যাগ করলেই এই পদটি খালি হয়৷ রাজ্যের ইতিহাসে এই প্রথমবার সরকারের মাঝামাঝি সময়ে অধ্যক্ষ পরিবর্তন করা হচ্ছে৷