স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২৩ সেপ্টেম্বর।। রূপরেখা ও পরিকল্পনা স্থির করে রাজ্যে অধিক সংখ্যায় মানুষের কাছে আয়ুষ্মান ভারত
জনআরোগ্য যোজনার সুফল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যে জন ঔষধীর প্রয়োগ ও ব্যবহারিক দিক বাড়াতে গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে। আজ আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।
অনুষ্ঠানে টেলিমেডিসিন পরিষেবার সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সঞ্জিবনী প্ল্যাটফর্মে এই স্পেশালিস্ট টেলি কনসালটেন্সি পরিষেবার শুভারম্ভ হয়েছে। যার মূল লক্ষ্য টেলিযোগে বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন বিভাগের অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ বিনামূল্যে প্রতিটি জনপদের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
আজ এই কর্মসূচিতে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য বেশ কয়েকজনকে সম্মানিত করা হয়। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কোভিড পরিষেবা প্রদান করতে গিয়ে আত্মত্যাগ করেছেন আশাকর্মী উমা দে ও ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজের ল্যাব টেকনেশিয়ান অনিন্দ্য দালাল।
মানবতার এই অন্যন্য নজির তৈরির জন্য তাদের কর্মনিষ্ঠা ও স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা স্বরূপ তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা জ্ঞাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে প্রায় সাড়ে ১২ লক্ষ সুবিধাভোগী আয়ুষ্মান ভারত জনআরোগ্য যোজনার আওতায় এসেছেন। রূপরেখা ও পরিকল্পনা স্থির করে আরও অধিক মাত্রায় মানুষের মধ্যে এই প্রকল্পের সুফল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ চলছে।
তথাপি পর্যালোচনার মাধ্যমে এক্ষেত্রে প্রকল্প রূপায়ণে আরও গতি আনতে কাজ করতে হবে। বিশেষ ভূমিকা নিতে হবে ওপিডি থেকে। বিশেষ করে আর্থিকভাবে অনগ্রসর মানুষের কাছে স্বাস্থ্য পরিষেবার সমস্ত সুযোগ পৌঁছে দিতে সবার প্রতি আহ্বান রেখে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে একাধিক পরিকল্পনা রূপায়িত হচ্ছে।
টেলিফোনের মাধ্যমে বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের মূল্যবান স্বাস্থ্য পরামর্শের সুযোগ রাজ্যের প্রতিটি জনপদের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে, নিজেদের ব্যক্তি জীবন থেকে কিছুটা সময় জনকল্যাণে বায় করতে, ১০ সেপ্টেম্বর একটি কর্মসূচিতে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান রাখেন মুখ্যমন্ত্রী।
টেলি কনসালটেন্সি পরিষেবার উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই পরিষেবার ফলে স্বাস্থ্য পরামর্শ মেলার ক্ষেত্রে ভৌগলিক দূরত্ব কমবে। ঘরে বসেই চিকিৎসকদের পরামর্শ মিলবে। শিশু, স্ত্রী রোগ ও মেডিসিন ও অন্যান্য বিভাগের চিকিৎসকগণ এই পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। অল্প সময়ের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনে সাড়া দিয়ে এই পরিষেবার সূচনা ও চিকিৎসকদের অংশগ্রহণের জন্য তিনি অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, আগামীদিনে এই পরিষেবার আধুনিকীকরণ, সময়সীমা বৃদ্ধি, বিডিও কনফারেন্স ও পরিধি বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। গত ৩১ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে শুরু হয় সুস্থ শৈশব ও সুস্থ কৈশোর অভিযান। ১৫ দিনব্যাপী মিশন মুডে এই কর্মসূচি রূপায়ণে অনেকটাই সফলতা মিলেছে।
ইতিমধ্যেই নির্ধারিত বয়সের প্রায় ১১ লক্ষ অর্থাৎ ১৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। এরজন্য এর সাথে যুক্ত প্রত্যেককে সাধুবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকারের দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার সুফল মিলছে। দুগ্ধ ক্ষেত্রে স্বয়ম্ভরতার লক্ষ্যে উন্নত গোধন প্রকল্পের সহায়তায় বর্তমানে জন্ম নেওয়া ৯৭ শতাংশই স্ত্রী বাছুর।
বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজন সঠিক দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ। বাস্তবসম্মত রূপরেখা তৈরির মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জন ঔষধীর প্রয়োগ এবং ব্যবহারিক প্রসার বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। চিকিৎসকরা জন ঔষধী প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি ঔষধের মজুত বাড়ানোর উপরেও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ চলছে।
স্বচ্ছ নিয়ত, সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সকল অংশের নাগরিকদের মধ্যে যেকোন ধরণের সংকীর্ণতার উর্দ্ধে উঠে সমস্ত সুযোগ পৌঁছে দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে কাজ করছে সরকার। এরই ফলশ্রুতিতে পানীয়জল, বিদ্যুৎ, উন্নত সেচ ব্যবস্থা, মাতৃত্বকালীন অবস্থা থেকে শুরু করে সমস্ত জনগণের কল্যাণে একাধিক পরিকল্পনা রূপায়িত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রধান সচিব জে কে সিনহা বলেন, আয়ুস্মান ভারত জন আরোগা যোজনার সহায়তা প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করছে বড়মাত্রায় সুবিধাভোগীরা এর সুফল পেয়েছেন। এই প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অভিম ব্যক্তি পর্যন্ত সুযোগ পৌঁছে যাচ্ছে। কোভিড টিকাকরণ ও সুস্থ শৈশব ও সুস্থ কৈশোর বিশেষ কর্মসূচির সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে রাজ্যের প্রায় ৩৫ লক্ষ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগ স্থাপনের সুযোগ হয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তরের।
মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনে সাড়া দিয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যে টেলি কনসালটেন্সি পরিষেবার সূচনা করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি। প্রধান সচিব শ্রী সিনহা বলেন, জনকল্যাণে পরিষেবা প্রদানে প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছে চিকিৎসক থেকে শুরু করে আশাকর্মী পর্যন্ত স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকে।
যার সুফল পাচ্ছেন রাজ্যের সমস্ত অংশের মানুষ। এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে একদিকে যেমন রোগীরা উপকৃত হচ্ছেন অন্যদিকে হাসপাতালের পরিকাঠামোও উন্নত হচ্ছে। উল্লেখ্য, এই কর্মসূচিতে রাজ্যের ১২৪টি হাসপাতাল ও বেসরকারি ২টি হাসপাতাল এই পরিষেবা প্রদানে তালিকাভূক্ত রয়েছে।
এদিনের অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব সুভাষ চন্দ্র সাহা, স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা ডা. সুভাশিষ দেববর্মা, পরিবার কল্যাণ ও রোগ প্রতিরোধক দপ্তরের অধিকর্তা ডা. রাধা দেববর্মা, এন এইচ এম-এর মিশন অধিকর্তা সিদ্ধার্থ শিব জয়সওয়াল প্রমুখ।