তাই এই রোগকে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে কাঞ্চনপুরের এগজটিক পিগ ব্রিডিং ফার্মকে এই রোগের এপিসেন্টার বা উৎপত্তিস্থল বলে ঘোষণা করা হয়েছে প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল অব ইনফেকশিয়াস অ্যান্ড কন্টেজিয়াস ডিজিজেস ইন এনিম্যাল অ্যাক্ট অনুসারে।
এই আইন অনুসারে উৎপত্তি স্থলের চারদিকে ১ কিলোমিটার এলাকাকে ইনফেকটেড জোন এবং ১০ কিলোমিটার এলাকাকে সার্ভেইল্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তাই প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তর থেকে এই ঘোষণার ভিত্তিতে কিছু বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। ইনফেকটেড জোনে বিধিনিষেধ
১) এই এলাকা থেকে কোনও জীবন্ত শূকর বা শূকরের খাদ্য, মাংস বা মাংসজাত দ্রব্য বাইরে নিয়ে যাওয়া যাবে না এবং তেমনি বাইরে থেকেও এ সমস্ত জিনিস এই এলাকায় নিয়ে আসা যাবে না। ২) কোনও মালবাহী যান এই এলাকা থেকে কোনও শূকর বাইরে বহন করতে পারবে না।
৩) তবে সড়কপথে বা রেলে করে এই জোনের মধ্য দিয়ে প্রাণী (শূকর) বহন করে নিয়ে যাওয়া যাবে যদি না এই এলাকায় কোনও প্রাণীকে গাড়ি থেকে নামানো না হয়। পশু চিকিৎসা কর্তৃপক্ষ দ্বারা স্যানিটাইজেশন সার্টিফিকেট জারি না করা পর্যন্ত এই নিয়ম বলবৎ থাকবে৷ ৪) আফ্রিকান সোয়াইন ফিভারে আক্রান্ত বলে সন্দেহজনক কোনও জীবিত বা মৃত শূকর কেউ এই এলাকা থেকে অন্যত্র নিয়ে যেতে পারবে না।
৫) আফ্রিকান সোয়াইন ফিভারে আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন আক্রান্ত পশুর সংস্পর্শে এসেছে এমন ব্যক্তি শূকরের খাবার, মৃতদেহ, চামড়া বা অন্য কোনও পদার্থ বহন করতে পারবে না। ৬) কোনও ব্যক্তি / সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান ইনফেকটেড জোনের মধ্যে প্রাণী বাজার, প্রাণী মেলা, প্রদর্শনী ইত্যাদি প্রাণী জমায়েতকারী কোনও অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারবে না যদি না ভেটেরিনারি অফিসার সেজন্য অন্যান্য প্রাণির ক্ষেত্রে ছাড় দেয়।
৭) কোনও ব্যক্তি আফ্রিকান সোয়াইন ফিভারে আক্রান্ত বা সন্দেহজনক কোনও শূকরকে কোনও বাজার, মেলা বা প্রদর্শনীতে নিয়ে আসতে পারবে না। ৮) জনসাধারণের স্বাস্থ্যের স্বার্থে জেলা পশু আধিকারিক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে ইনফেকটেড জোনে লিখিতভাবে কোনও সংক্রমিত প্রাণীর হত্যা করে সেই প্রাণীটির শবদেহ নির্দিষ্ট উপায়ে নষ্ট করে দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবেন৷
৯) উক্ত আইনের নিয়মে সমস্ত পুরসভা ও পঞ্চায়েত, গ্রাম উন্নয়ন, রাজস্ব দপ্তর ও কৃষি দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মীরা পশু আধিকারিককে তার দায়িত্ব পালনে সহায়তা করবেন। ১০) কোনও ব্যক্তি যদি সংক্রমিত প্রাণীর শব কোনও নদী, জলাশয়, নালা বা অন্য কোনও জলাধারে ফেলে দেয় বা ফেলে দেওয়ার আদেশ / অনুমোদন দেয় তাহলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবে এবং সেজন্য তাঁর জেল বা জরিমানা বা উভয়ই হতে পারে৷ সার্ভেইল্যান্স জোনে বিধিনিষেধ:
সার্ভেইল্যান্স জোনে ইনফেকটেড জোনের সমস্ত বিধিনিষেধ জারি থাকবে তবে কোনও পশুকে সংক্রমিত সন্দেহে বধ করা হবে না। এই এলাকার সমস্ত পশু কড়া নজরদারির মধ্যে থাকবে যেমন ক্লিনিক্যাল সার্ভেইল্যান্স, ভিরোলজিক্যাল সার্ভেইল্যান্স, সেরোলোজিক্যাল সার্ভেইল্যান্স ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বন দপ্তরের পরামর্শক্রমে বন এলাকার কাছাকাছি পালিত শূকরের নজরদারি করা হবে৷ প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তর থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সংবাদ জানানো হয়েছে।