শুক্রবার গান্ধীগ্রামে এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় খাদ্য ও গণবন্টন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী অশ্বিনী কুমার চৌবে একথা বলেন। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী খাদ্য, গণবন্টন ও ক্রেতাস্বার্থ বিষয়ক দপ্তরের উদ্যোগে মোহনপুর মহকুমার গান্ধীগ্রামস্থিত বৈদ্যনাথ মজুমদার অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সুবিধাভোগীদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী গরীব কল্যাণ অন্ন যোজনায় বিনামূল্যে চাল বিতরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার এই যোজনায় খাদ্য সুরক্ষা আইনের আওতায় থাকা দেশের ৮০ কোটির অধিক মানুষের মধ্যে স্বাভাবিক বরাদ্দের অতিরিক্ত মাথাপিছু ৫ কেজি করে খাদ্যশস্য বিনামূল্যে প্রদান সুনিশ্চিত করেছে।
ত্রিপুরায় ২০২০ সালে করোনা অতিমারীর প্রথম দিকের সময়ে ৫ লক্ষ ৭৯ পরিবারকে এপ্রিল, ২০২০ থেকে নভেম্বর, ২০২০ পর্যন্ত প্রতি মাসে ৫ কেজি করে চাল রেশন দোকানের মাধ্যমে বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে।
একই প্রকল্পে প্রতি পরিবারকে এক কেজি করে ডালও দেওয়া হয়েছিলো। এরফলে রাজ্যের জনগণকে মোট ৯৫ হাজার ২৫ মেট্রিক টন চাল এবং ৪,৪১৬ মেট্রিক টন ডাল সরবরাহ করা হয়েছে।
তাছাড়াও করোনা অতিমারীর দ্বিতীয় ঢেউ চলাকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রী গরীব কল্যাণ অন্ন যোজনায় দ্বিতীয় পর্যায় গত মে, ২০২১ থেকে চালু করা হয়েছে। চলবে নভেম্বর, ২০২১ পর্যন্ত। এর মাধ্যমে রাজ্যের ৫ লক্ষ ৯৬ হাজার পরিবার যথারীতি বিনামূল্যে খাদ্যশস্য পাবেন৷ এই পর্যায়ে ৮৬ হাজার ৮০০ মেট্রিকটন চাল সরবরাহ করা হবে।
পাশাপাশি এখন পর্যন্ত রাজ্যের ৭ লক্ষ ১৩ হাজার পরিবারকে চাল, মসুর ডাল, ভোজ্য তেল, লবণ, পেঁয়াজ প্রভৃতি সহ ফুড প্যাকেট মুখ্যমন্ত্রী কোভিড স্পেশাল রিলিফ প্যাকেজের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকার যৌথভাবে দেশের একবারে অন্তিম পর্যায়ের লোকের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক বিকাশে দায়বদ্ধ।
এই লক্ষ্যেই উভয় সরকার কাজ করে চলেছে। মহিলা স্বশক্তিকরণ, ডিজিটাইজড ব্যবস্থা, দুর্নীতি মুক্ত, দালাল মুক্ত, কালোবাজারিহীন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দিশায় ত্রিপুরা সরকার কাজ করছে। ওয়ান নেশন, ওয়ান রেশন কার্ডের মাধ্যমে দেশবাসী প্রভূত উপকৃত হবেন বলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আগর ও রাবার গাছের মাধ্যমে রাজ্যের আয় বৃদ্ধির যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করায় ত্রিপুরা সরকারের প্রশংসা করেন। আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শ্রীচৌবে প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু কামনা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন তাঁর মার্গদর্শনে সম্পন্ন এবং বৈভবশালী রাষ্ট্রে পরিণত হবে ভারতবর্ষ।