স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ১৩ সেপ্টেম্বর।। উচ্চ আদালতের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত চাকরিতে নিযুক্তি পেতে চলেছেন বঞ্চিত ২ প্রার্থী৷ তবে বঞ্চনার অবসানের লক্ষ্যে দু’বার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করতে হয়েছে বঞ্চিত প্রার্থীদের৷
মামলার বিবরণে প্রকাশ, ২০১৬ সালে শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের বিজ্ঞাপন মূলে ‘এমপ্লয়েবিলিটি স্কিল’ পদে চাকরির জন্য সাক্ষাৎকার পর্বে অংশ নিয়েও বঞ্চিত হয়েছিলেন রাজু সাহা ও সুবর্ণা চক্রবর্তী৷
পরবর্তীতে তথ্য জানার অধিকার আইনে জানতে পারেন এই পদে নিয়োগ প্রাপ্ত জনৈক বেদ প্রকাশ ব্যানার্জি ‘নিডি’ ক্যাটাগরিতে ২৫ নম্বরে ২৫ পেলেও বঞ্চিত দু’জনকে এই ক্যাটাগরিতে নম্বরই প্রদান করা হয়নি৷ ফলে বঞ্চিত ২ জন এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে পৃথক পৃথক রিট আবেদন দাখিল করে৷
এই আবেদন মূলে হাইকোর্ট নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ‘নিডি’ ক্যাটাগরি অসাংবিধানিক বলে জানিয়ে দেয় এবং এই ক্যাটাগরিতে প্রদান করা নম্বর বাদ দিয়ে নতুন করে ম্যারিট লিস্ট প্রকাশের জন্য রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দেয়৷
হাইকোর্টের নির্দেশে নতুন করে ম্যারিট লিস্ট তৈরী করা হলে দেখা যায় নিয়োগ প্রাপ্ত বেদ প্রকাশ ব্যানার্জির প্রাপ্ত নম্বর ৩৬ কিন্তু আবেদনকারী রাজু সাহার প্রাপ্ত নম্বর ৪৬ এবং সুবর্ণা চক্রবর্তীর নম্বর ৪৫৷ স্বাভাবিক কারণেই নতুন করে প্রকাশিত ম্যারিট লিস্টে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে চাকরি বঞ্চিতরা তালিকার শীর্ষে উঠে আসেন৷
হাইকোর্টের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নতুন করে ম্যারিট লিস্ট প্রকাশ করে যাতে বঞ্চিতরা যোগ্যতার বিচারে শীর্ষে জায়গা করে নেয়, কিন্তু রাজ্য সরকারের শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তর আবেদনকারীদের চাকরিতে নিযুক্তি প্রদানে অনীহা প্রকাশ করে৷ ফলশ্রুতিতে চাকরিতে বঞ্চনার অভিযোগে আবেদনকারী দুইজন ফের হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে মামলা করতে বাধ্য হন৷
দাখিল করা মামলায় হাইকোর্টের মাননীয় বিচারপতি অরিন্দম লোধ উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বঞ্চিত ২ প্রার্থীকে রাজ্যের যে কোন আই টি আইতে সংশ্লিষ্ট পদে নিযুক্তি প্রদানের জন্য গত শুক্রবার কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে বলে জানিয়েছন আবেদনকারীদের পক্ষের আইনজীবী অরিজিৎ ভৌমিক৷