Announces: চীন ও রাশিয়াকে ‘সঙ্গে নিয়ে’ আফগানিস্তানের মাটিকে সন্ত্রাসমুক্ত রাখার ঘোষণা দিল ভারত

অনলাইন ডেস্ক, ১০ সেপ্টেম্বর।। চীন ও রাশিয়াকে ‘সঙ্গে নিয়ে’ আফগানিস্তানের মাটিকে সন্ত্রাসমুক্ত রাখার ঘোষণা দিল ভারত। আজ ‘ব্রিকস’ গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির বৈঠকের পর ‘দিল্লি ঘোষণাপত্র’কে তাদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবেই দেখছেন ভারতের কুটনীতিকরা।

তালেবানরা কাবুলের দখল নেওয়ার পরই স্বীকৃতি দিয়েছিল বেইজিং। মস্কোও তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়। পরে জাতিসংঘে আফগানিস্তান সংক্রান্ত প্রস্তাবে ভোটাভুটি বয়কট করে চীন এবং রাশিয়া। তবে ‘ব্রিকস’ গোষ্ঠীর (ভারত, রাশিয়া, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিল) পঞ্চদশ শীর্ষ বৈঠকের পর প্রকাশিত ঘোষণাপত্রে আফগানিস্তানের মাটিকে অন্য দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের কাজে ব্যবহার হতে না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভারতের কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, গত এক মাসে পশ্চিম এশিয়ার পট পরিবর্তনে ক্রমশ চাপ বাড়ছিল ভারতের ওপর। আজ চীন এবং রাশিয়াকে সঙ্গে নিয়ে আফগানিস্তান সংক্রান্ত নির্দিষ্ট সন্ত্রাস-বিরোধী নথি তৈরি করতে পারায়, কিছুটা কূটনৈতিক স্বস্তি মিলল বলেই দাবি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।

যৌথ ঘোষণাপত্রে যা বলা হয়েছে, তা মূলত ভারতেরই উদ্বেগ- এমনই দাবি করছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আফগানিস্তান প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘আমরা চাই হিংসা বন্ধ হোক, পরিস্থিতি সামলানো হোক শান্তিপূর্ণ উপায়ে। দেশে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা স্থাপনের জন্য সবাইকে সঙ্গে নিয়ে তালেবানদের আলোচনা শুরু করায় জোর দিতে চাইছি আমরা। পাশাপাশি হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সন্ত্রাসবাদী আক্রমণের তীব্র নিন্দা করছি’।

ওই যৌথ ঘোষণাত্রে আরও বলা হয়, ‘আফগানিস্তানের ভূখণ্ডকে ব্যবহার করে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির অন্য দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালানো এবং সেই ভূখণ্ডকে জঙ্গিদের অভয়ারণ্য করে তোলার বিরোধী আমরা। সেখানে নারী, শিশু, সংখ্যালঘুদের মানবাধিকারকে গুরুত্ব দিতে চাইছি আমরা’। চীন এবং রাশিয়াও ঘোষণাপত্রে সাক্ষর করেছে।

কূটনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানকেও জোরালো বার্তা দেওয়া উদ্দেশ্য ছিল নয়াদিল্লির। এ দিনের ঘোষণাপত্রে পাকিস্তানের নাম না নিয়েই বলা হয়েছে, ‘যে কোনও ধরনের সন্ত্রাসবাদের ঘোর নিন্দা করছি আমরা। তা সে যে কারণই দেখানো হোক বা যে-ই করুক না কেন। আমরা যে কোনও ধরনের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করার জন্যও প্রস্তুত আছি। তার মধ্যে রয়েছে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাস, জঙ্গিদের অর্থ জোগানো এবং তাদের জন্য অভয়ারণ্য তৈরি করে দেওয়া’।

আর এক সপ্তাহ পরেই এসসিও শীর্ষ সম্মেলন, যেখানে চীন এবং ভারত ছাড়াও থাকবে পাকিস্তান। তার ১০ দিন পরে জাতিসংঘের সাধারণ সম্মেলনে বক্তৃতা দেওয়ার কথা রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। তার আগেই এই যৌথ ঘোষণা আসল।

এ দিন আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে সন্ত্রাসের বিরোধিতায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমেরিকার সেনা প্রত্যাহারের ফলে আফগানিস্তানে নতুন সঙ্কট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা স্পষ্ট নয়’।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?