অনলাইন ডেস্ক, ৭ সেপ্টেম্বর।। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত আফগানিস্তানে অল্পসংখ্যক শিখ ধর্মাবলম্বীর বাস। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাতৃভূমি ত্যাগ করার ইচ্ছা নেই। কাবুলে স্বল্পসংখ্যা শিখ ও হিন্দু রয়েছে।
পাশাপাশি গজনি, জালালাবাদ, খোস্ট ও কান্দাহারে প্রজন্মের পর প্রজন্ম তারা রয়েছেন। সম্প্রতি কাবুলের স্থানীয় গুরুদুয়ারা কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মনমোহন সিং শেঠি জানান, তালেবান শাসিত আফগানিস্তান ত্যাগের কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের।
আফগানিস্তানের সাড়ে ৩ কোটি জনসংখ্যার ৯৯.৭ শতাংশই মুসলিম। মনমোহন জানান, আফগানিস্তানে মাত্র ১৫০টি শিখ ও হিন্দু পরিবার রয়েছে। তাদের বেশির সদস্যই গত ২০ বছরে ভারতে চলে গেছে।
এ ব্যবসায়ী জানান, আফগানিস্তানে শিখ ও হিন্দুরা হাজার বছর ধরে বসবাস করে আসছে। তবে সংখ্যালঘুদের একটি অংশ ধর্মীয়ভাবে সংযুক্ত থাকা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে যেতে আগ্রহী। তারা কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নিয়মিত ফ্লাইট চালুর অপেক্ষায় আছেন।
এক সময় আফগানিস্তানে হাজার হাজার শিখ ও হিন্দু ধর্মাবলম্বী বসবাস করতেন। কিন্তু ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের আগ্রাসনের পর থেকে শুরু সহিংসতার কারণে কয়েক দশকে দুই ধর্মের বেশির ভাগ সদস্যই দেশ ত্যাগ করেছেন।
এ দিকে তালেবানদের কাছে সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার আবেদন জানিয়েছেন শিখ নেতারা। শিখ সম্প্রদায়ের নেতা তালভিন্দর সিং চাওলা জানান, তালেবান শাসনে বসবাস তাদের কাছে কোনো বিষয়ই নয়। বরং, তারা চান সংখ্যালঘু হিসেবে রাষ্ট্র যেন তাদের সুরক্ষা দেয়।
গত মে মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার শুরু হলে আফগানিস্তানের একের পর এক প্রদেশ তালেবানদের দখলে যেতে থাকে। ১৫ আগস্ট দেশটির রাজধানী কাবুল তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। বর্তমানে সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে তালেবানরা।