অনলাইন ডেস্ক, ১ সেপ্টেম্বর।। মহারাষ্ট্রের পালঘরের জেলে চন্দ্রকান্ত তাড়ে কখনো ভাবেননি, মাছ ধরে রাতারাতি তার ভাগ্য বদলে যাবে। তবে এই অবিশ্বাস্য ঘটনাই ঘটেছে তার সঙ্গে। মাছ ধরে তিনি কোটিপতি হয়ে গেছেন।
বর্ষাকালীন মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে অনেকদিন মাছ ধরতে পারেননি। নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে গত ২৮ আগস্ট তিনি নৌকা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। জাল ফেলার পর তিনি বুঝতে পারেন, ভারি কিছু আটকা পড়েছে। তাৎক্ষণিক তিনি জাল গুটিয়ে আনতে শুরু করেন। কিন্তু অবাক করার বিষয় ঘটে যখন দেখা যায় তার জালে প্রায় ১৫০টি বিরল ঘোল মাছ ধরা পড়েছে।
নৌকায় থাকা অন্য জেলেরা এতোগুলো ঘোল মাছ ধরার আনন্দে মুঠোফোনে ভিডিও করতে শুরু করেন।মাছগুলো নিলামে তোলা হলে প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ রূপি দাম হাকানো হয়।চন্দ্রকান্তের ছেলে সোমনাথ বিক্রয় চুক্তিটি নিশ্চিত করেন। তবে চন্দ্রকান্ত ভিন্ন কথা জানান, তিনি বলেন এখনও কোনো চুক্তি হয়নি।
অনন্য স্বাদ ও ওষুধী গুনের কারণে ঘোল মাছ অত্যন্ত মূল্যবান। এই মাছ ‘সোনালী হৃদয়ের মাছ’ বা ‘সি গোল্ড’ নামেও পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম ‘প্রোটোনিবিয়া ডায়াকানথুস’ । ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পাওয়া এক ধরনের কালো দাগযুক্ত ক্রোকার মাছের সবচেয়ে উচ্চমূল্যের জাত হিসেবে বিবেচিত হয় এই মাছ।
এই মাছের প্রতিটি অংশ ওষুধ এবং প্রসাধন তৈরির কাজে ব্যবহত হয়। ওষুধ, প্রসাধন, দেহের সঙ্গে মিশে যাওয়া সেলাইয়ের সুতা সহ বিভিন্ন জিনিস তৈরিতে ব্যবহার করা হয় এই মাছ। হংকং, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপানে এই মাছের বিপুল চাহিদা রয়েছে। কিন্তু দূষণের জন্য অনেক কমে গেছে ঘোল মাছ। এবার তা পেতেই ভাগ্য ফিরতে চলেছে ওই মৎস্যজীবীদের।