অনলাইন ডেস্ক, ৩১ আগস্ট।। সপ্তাহ দু-এক আগেই এক তালেবান নেতার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন আফগানিস্তানের নারী সাংবাদিক বেহেশতা আরগান্দা। এবার তাকেই তালেবানের ভয়ে আফগানিস্তান থেকে পালাতে হলো।
ইতিহাস গড়া এই নারী সাংবাদিক সিএনএনকে বলেছেন, তালেবানের ভয়েই দেশ ছেড়েছেন তিনি। আর তার প্রতিষ্ঠান টলোনিউজের মালিক সাদ মহসিনের ভাষায়, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি যে কী, তার একটি প্রতীকী রূপ হল বেহেশতার দেশত্যাগ।
দুই দশক পর আফগানিস্তানে ক্ষমতার দখল নেওয়া গোঁড়া ইসলামি দল তালেবান শরিয়া আইনে চলার কথা বললেও কিছু পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে। আগে যখন তারা ক্ষমতায় ছিল, তখন তারা নারীদের বাইরে কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল, মেয়ে শিশুদের স্কুলে যাওয়াও করেছিল বন্ধ।
কিন্তু গত ১৫ আগস্ট কাবুল দখলের পরদিন প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছিলেন, তাদের শাসনে নারীরা স্বাধীনতা পাবে ‘শরিয়া আইন অনুযায়ী’, তাদের ‘নিয়ম মেনে’ সংবাদমাধ্যমও মুক্তভাবে কাজ করতে পারবে। এরপর ১৭ আগস্ট আফগানিস্তানের প্রথম নারী সংবাদকর্মী হিসেবে তালেবান নেতার সাক্ষাৎকার নিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন টলোনিউজের বেহেশতা আরগান্দ।
মোহসেনি তখন ওয়াশিংটন পোস্টে এক কলামে উচ্ছ্বসিত হয়ে সেই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে লিখেছিলেন, ‘আফগানিস্তানের ইতিহাসে এই প্রথম টিভিতে লাইভ সাক্ষাৎকারে তালেবানের কোনো প্রতিনিধি একজন নারী সংবাদকর্মীর সামনে এলেন। ’
আর এর মধ্য দিয়ে তালেবান বিশ্বকে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের একটি বার্তা দিতে চাইছে বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। কিন্তু তালেবানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে দ্বিধা-সংশয়ের মধ্যে দুই সপ্তাহ না যেতেই দেশ ছাড়লেন বেহেশতা।
সিএনএন হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করলে তার এই পদক্ষেপের কারণ তুলে ধরে বলেন, ‘আমি দেশ ছেড়েছি, কারণ অন্য লাখো মানুষের মতো আমিও তালেবানকে ভয় পাচ্ছি। ’