স্টাফ রিপোর্টার, বিশালগড়, ২৯ আগস্ট।। গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে মহিলাদের ভূমিকা অপরিসীম। একমাত্র মহিলারাই পারেন গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশকে ত্বরান্বিত করতে। রাজ্যে তিন দিনের সফরে এসে আজ সকালে সিপাহীজলা জেলায় জেলার বিভিন্ন স্বসহায়ক দলের প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময়ের সময় একথা বলেন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী গিরিরাজ সিং।
তিনি বলেন, গ্রামকে উন্নত করতে না পারলে একটি রাজ্যের বিকাশ সম্ভব নয়। গ্রাম স্বরাজের মাধ্যমে রাজ্যের উন্নয়নের সাথে সাথে দেশেরও অগ্রগতি হয়। গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে কৃষি ও কৃষি সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রেগুলিকে ভিত্তি করেই এগিয়ে যেতে হবে। কৃষি কাজে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে ফসলের উৎপাদন বাড়ানো, রাসায়ণিক সার ব্যবহার না করে জৈব সার প্রয়োগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শ্রীসিং আজ সকালে সিপাহীজলা জেলায় রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পে রূপায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচিগুলি পরিদর্শন করেন। তিনি প্রথমে বিশালগড় মহকুমার গকুলনগর গ্রামপঞ্চায়েতে বন দপ্তরের উদ্যোগে রূপায়িত লেবু, পেয়ারা ও আম বাগানগুলি পরিদর্শন করেন ও বন দপ্তরের আধিকারিকদের সাথে কথা বলেন। উল্লেখ্য, এমজিএন রেগায় এই বাগানগুলি করা হয়েছে।
জাতীয় সড়কের পাশে সৌন্দর্যায়নের জন্য এই কর্মসূচি নেওয়া হয়। এরপর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেলার জাতীয় সড়কের পাশে উদ্যান ও ভূমি সংরক্ষণ দপ্তরের উদ্যোগে তৈরী ড্রাগন ফলের বাগানটি ঘুরে দেখেন এবং সুবিধাভোগীদের সাথে কথা বলেন। কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী আজ জেলার পূর্ব গকুলনগরে সীমান্ত এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পে এবং এমজিএন রেগায় পূর্ব গকুলনগরে নির্মিত কমিউনিটি ইকো পার্ক পরিদর্শন করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে বন দপ্তর থেকে সীমান্ত এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পে ও এমজিএন রেগায় ৫৫ লক্ষ ৮ হাজার ৮০৮ টাকা ব্যয় করে এই পার্কটি গড়ে তোলা হয়েছে। বন দপ্তরের নির্মিত ইকো পার্কটি পরিদর্শন করে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী বন দপ্তরের আধিকারিকদের ভূয়সি প্রশংসা করেন। ইকো পার্কে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী গিরিরাজ সিং স্বসহায়ক দলের সদস্য-সদস্যাদের সাথে মতবিনিময় করেন।
স্বসহায়ক দলগুলিকে স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে তিনি তামিলনাড়ু থেকে সাজনা এনে এখানে লাগানোর উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, সাজনা গাছের ঔষধী গুণকেও কাজে লাগাতে হবে। এর ব্যাপক চাহিদাও রয়েছে। তাছাড়াও স্বসহায়ক দলগুলির সদস্য-সদস্যা প্রত্যেকের বাড়িতে গরু, ছাগল ও মোরগ পালনের জন্য তিনি পরামর্শ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, উত্তর পূর্বাঞ্চলের মধ্যে ত্রিপুরার বাশ বেতের অনেক কদর রয়েছে। রাজ্যের প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে বাশ বেতের তৈরী শিল্পসামগ্রী দেশ ও বিদেশে রপ্তানি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। তারপর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পূর্ব গকুলনগর গ্রাম পঞ্চায়েতে স্বসহায়ক দলের সদস্য-সদস্যাদের সাথে মত বিনিময় করেন।
কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী গিরিরাজ সিং আজ চড়িলাম ব্লকের চেছরিমাই গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরের উদ্যোগে নির্মিত কমন ফেসিলিটি সেন্টার, ওমেন টেকনোলজি পার্ক ও ভূমি সংরক্ষণ দপ্তরের উদ্যোগে এমজিএন রেগায় আম বাগানটি ঘুরে দেখেন।
চেছরিমাই পঞ্চায়েত অফিস প্রাঙ্গণে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেলা থেকে নির্বাচিত বিভিন্ন স্বসহায়ক দলের মহিলা সদস্যাদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং স্বসহায়ক দলের উৎপাদিত পণ্য সম্পর্কে খোজ খবর নেন।
রাজ্যের ৩ লক্ষ মহিলাকে স্বসহায়ক দলের সাথে যুক্ত করতে তিনি গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরের আধিকারিকদের নির্দেশ দেন। স্বসহায়ক দলের মহিলা সদস্যাদের বহিঃরাজ্যের উন্নত প্রতিষ্ঠানগুলিতে পাঠিয়ে তাদের আধুনিক কৌশলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার উপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী ত্রিপুরা সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিকাশে গুরুত্ব দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার এই অঞ্চলের আর্থ সামাজিক মান উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের নেতৃত্বে রূপায়িত উন্নয়ন কর্মসূচি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করেন।
সিপাহীজলা জেলা সফরে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক বীরেন্দ্র কিশোর দেববর্মা, বিধায়ক সুভাষ চন্দ্র দাস, সিপাহীজলা জিলা পরিষদের সহাকরী সভাধিপতি পিন্টু আইচ, গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের সচিব সোম্যা গুপ্তা, সচিব কিরণ গিত্যে, কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের সচিব সি কে জমাতিয়া, জেলাশাসক বিশ্বশ্রী বি, অতিরিক্ত জেলাশাসক সুভাশিষ বন্দোপাধ্যায়, অতিরিক্ত সচিব টি কে দেবনাথ, পুলিশ সুপার কৃষ্ণেন্দু চক্রবর্তী, উদ্যান দপ্তরের অধিকর্তা ফনীভূষণ জমাতিয়া সহ পদস্থ আধিকারিকগণ।
সিপাহীজলা জিলা পরিষদের সভাধিপতি সুপ্রিয়া দাস দত্ত চেছরিমাই পঞ্চায়েতে স্বসহায়ক দলের সদস্যাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ত্রিপুরার বাশ ও বেতের তৈরী উপহার কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।