স্টাফ রিপোর্টার, উদয়পুর, ২৮ আগস্ট।।
স্বসহায়ক দলগুলিকে স্বশক্তিকরণের মাধ্যমে আত্মনির্ভর ভারত নির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করছে কেন্দ্রীয় সরকার। স্বসহায়ক দলগুলিকে আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে উজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রয়েছে গ্রামীণ ব্যাঙ্কের।
আজ গোমতী জেলার কিল্লা ব্লকের দশরথ দেব মেমোরিয়াল স্কুল প্রাঙ্গণে বিভিন্ন স্বসহায়ক দলের সাথে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে একথা বলেন কেন্দ্রীয় অর্থ ও কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সার্বিক বিকাশে প্রধানমন্ত্রীর মার্গদর্শনে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে কেন্দ্রীয় সরকার। পূর্বোত্তর রাজ্যগুলিতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের প্রবাস করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
নাবার্ডের মাধ্যমে প্রাথমিক ক্ষেত্রের বিকাশে কাজ করছে সরকার। এক্ষেত্রে স্বসহায়ক দল তৈরির মাধ্যমে মহিলাদের আত্মনির্ভরতা এবং রোজগার তৈরির উপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ চলছে। এসএইচজি গ্রুপের সদস্যদের বিভিন্ন সামগ্রী উৎপাদনে আর্থিক সহায়তা ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে রোজগার তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সর্বত্র কাজ চলছে।
তিনি বলেন, ঋণ প্রদান সহ বিভিন্নভাবে স্বসহায়ক দলগুলিকে আর্থিক সহায়তা করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা নিয়ে কাজ করছে গ্রামীণ ব্যাঙ্ক। এক্ষেত্রে অনেকাংশেই লক্ষ্যের চাইতেও অধিক স্বসহায়ক দলকে সহায়তা করা হচ্ছে। গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে গ্রামীণ ব্যাঙ্কের।
মন্ত্রী আরও বলেন, জনধন অ্যাকাউন্ট করার ফলে বিশেষ করে মহিলারা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন। এরআগে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরে পরিদর্শন করেন এবং পুজো দেন। সেই সময় তার সাথে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব, বিধায়ক বিপ্লব কুমার ঘোষ, বিশিষ্ট সমাজসেবী নীতি দেব প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন, রোজগার তৈরির লক্ষ্যে বড়মাত্রায় স্বসহায়ক দল গঠন করার উপর গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। বর্তমান সরকারের সময়ে প্রায় ৬ গুণের অধিক বেড়েছে স্বসহায়ক দলের সংখ্যা। এরফলে বড়মাত্রায় রোজগার তৈরির সুযোগ রয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে বিভিন্নভাবে প্রায় পৌনে ৪০০ কোটি টাকা লগ্নি হয়েছে এক্ষেত্রে।
ঘরে বসেই রোজগারের মাধ্যমে এর সুফল পাচ্ছেন স্বসহায়ক দলের সঙ্গে যুক্ত সদস্যরা। এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জনজাতিদের জীবনমান বিকাশে ও পরিকাঠামো উন্নয়নে ১,৩০০ কোটি টাকার যে প্রকল্পের ঘোষণা কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী করেছেন, তা রাজ্যের উন্নয়নের গতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
সময়সীমা বেঁধে দিয়ে জনকল্যাণে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। আন্তরিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যবাসীর জন্য হীরা মডেল উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মহিলাদের রান্নার গ্যাস সংযোগ যেমন দিয়েছেন তার সঙ্গে কোভিড পরিস্থিতির মধ্যেও অন্নের ব্যবস্থা করেছেন।
সঠিক ব্যবস্থাপনার ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন হচ্ছে রাজ্যে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় নির্মিত ঘরকে আরও বড় পরিসরে নির্মাণের লক্ষ্যে আগ্রহী সুবিধাভোগীদের ঋণের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী৷
এরফলে ৯ শতাংশ হার সুদে সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া যাবে। প্রাথমিকভাবে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক থেকে এই সুযোগ মিললেও আগামীদিনে অন্যান্য ব্যাঙ্ক দ্বারা এই সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে অধিক সংখ্যায় সুবিধাভোগীরা উপকৃত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার আগেই রাজ্যে ২০২২ সালের মধ্যে প্রতিবাড়িতে পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ চলছে। পরিকাঠামো ও পরিষেবা উন্নয়নের পাশাপাশি রোজগার তৈরিতেও সরকার গুরুত্ব সহকারে কাজ করছে।
স্বচ্ছ নিয়োগনীতির মাধ্যমে সম্প্রতি ৫ হাজার নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুর দেববর্মণের স্বপ্নের আধুনিক ত্রিপুরা নির্মাণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর মার্গদর্শনে বিকাশের ভাবনায় কাজ করছে রাজ্য সরকার।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা বলেন, মহিলা স্বশক্তিকরণের মাধ্যমেই সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব। স্বসহায়ক দলের মাধ্যমে রাজ্যে রোজগার তৈরির লক্ষ্যে কাজ চলছে। এরফলে বড়মাত্রায় মহিলারা এর সুফল পাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর ঘোষিত ১৩০০ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ রাজ্যের জনজাতিদের জীবনমান বিকাশে এবং তাদের অগ্রগতিতে সহায়ক ভূমিকা নেবে। রাজ্যে লাইভলিহুড মিশন সহ বিভিন্নভাবে রোজগার তৈরি এবং নাগরিকদের আর্থসামাজিক ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
এদিনের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্বসহায়ক দলের স্টল এবং ৫ জন স্বসহায়ক দলের সদস্যার সঙ্গে মতবিনিময় করেন কেন্দ্রীয় অর্থ ও কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এরপর তিনি নাবার্ডের স্পনসর করা ত্রিপুরা স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের মোবাইল এটিএম ভ্যানের ফ্ল্যাগ অফ করেন।
এদিনের অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক রামপদ জমাতিয়া গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের সচিব সৌম্যা গুপ্তা, গোমতী জেলার জেলাশাসক রাভেল হেমেন্দ্র কুমার প্রমুখ।