স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২০ আগস্ট।।মানবিকতা ও আন্তরিকতার সাথে দেশের দিব্যাঙ্গজনদের সহায়তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার বিগত ৭ বছরে ২০ লক্ষ দিব্যাঙ্গজনদের মধ্যে চলন সামগ্রী, ট্রাইসাইকেল, শ্রবণযন্ত্র সহ ২১ রকমের সহায়ক সামগ্রী প্রদান করেছে।
এজন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় হয়েছে ১,২৩৫ কোটি টাকা। আজ আগরতলা টাউন হলে এ বছর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে উত্তীর্ণ সরকারি হোমের দিব্যাঙ্গজন ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক একথা বলেন।
অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকারের প্রস্তাব এলে রাজ্যের নথীভুক্ত ৮৪ হাজার দিব্যাঙ্গজনকে ইউনিক ডিসএবিলিটি আইডেন্টিফিকেশন কার্ড (ইউ ডি আই ডি কার্ড) প্রদানের উদ্যোগ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এই ইউনিক কার্ডের মাধ্যমে দিব্যাঙ্গজনরা এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে গিয়ে কাজ করতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, ত্রিপুরাতে দিব্যাঙ্গজনদের জন্য বর্তমানে ৪টি ডিডিআরসি সেন্টার চালু রয়েছে। রাজ্যের প্রতিটি জেলায় একটি করে ডিডিআরসি সেন্টার চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রকের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাগুলি সঠিকভাবে সংশ্লিষ্টদের নিকট পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শ্রীমতি ভৌমিক কোভিড-১৯ অতিমারী নিয়ন্ত্রণে রাজ্যের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রয়াসের মধ্য দিয়ে ত্রিপুরা এখন ১০০ শতাংশ টিকাকরণের দিকে এগিয়ে চলেছে।
রাজ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯৩ শতাংশ টিকাকরণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা মন্ত্রী সান্ত্বনা চাকমা যে সমস্ত দিব্যাঙ্গজন ছাত্রছাত্রী এবছর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছেন তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, রাজ্য সরকার মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি যারা সুস্থ হয়ে উঠেছেন তাদের থাকার জন্য ২৫ আসন বিশিষ্ট দুটি হোম নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। দিব্যাঙ্গজনদের কল্যাণে রাজ্য সরকার দৃষ্টিহীন, বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের প্রতিমাসে ১ হাজার টাকা করে ভাতা দিচ্ছে।
দিব্যাঙ্গজনদের কল্যাণে গত তিন বছরে ৪,৩৭৮ জন দিব্যাঙ্গজনকে চলন সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। তিনি দপ্তরের উদ্যোগে দিব্যাঙ্গজনদের কল্যাণে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচির সুফল সংশ্লিষ্টদের নিকট পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতার আহ্বান জানান।
সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের সভাধিপতি অন্তরা সরকার দেব, রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন বর্ণালী গোস্বামী, ত্রিপুরা কমিশন ফর প্রোটেকশন অব চাইল্ড রাইটসের চেয়ারপার্সন নীলিমা ঘোষ, সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের প্রধান সচিব জে কে সিনহা, অধিকর্তা সিদ্ধার্থ শিব জসওয়াল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সরকারি হোমের দিব্যাঙ্গজন ছাত্রছাত্রী যারা এবছর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি দিব্যাঙ্গজনদের মধ্যে বিভিন্ন চলন সামগ্রী, ইউডিআইডি কার্ড প্রদান ও সামাজিক সুরক্ষা পেনশন প্রদান করা হয়।
কেন্দ্রীয়মন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক সহ উপস্থিত অন্যান্য অতিথিগণ তাদের হাতে এই সামগ্রীগুলি তুলে দেন। অনুষ্ঠানে অল ত্রিপুরা অঙ্গনওয়াড়ি ওয়ার্কার্স অ্যান্ড হেল্পার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে মন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিককে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।