স্টাফ রিপোর্টার, কুমারঘাট, ২১ আগস্ট।।
মানুষের কাছে যাতে নিরবিচ্ছিন্ন উচ্চমানের বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়, যাতে ভোল্টেজের কোন সমস্যা না হয় সেই লক্ষ্যে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে কার। কুমারঘাট সাবডিভিশন কমপ্লেক্সে আজ ৩৩/১১ কেভি পাওয়ার সাব স্টেশনের উদ্বোধন করে উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা একথা বলেন।
সুসংহত বিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রকল্পে সাব স্টেশনটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৭.০৯ কোটি টাকা। সাব স্টেশানটি নির্মাণের ফলে কুমারঘাট পুর এলাকা সহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বিদ্যুৎ ভোক্তা উপকৃত হবেন বলে জানানো হয়েছে।
সাব স্টেশনটি উদ্বোধন করে উপমুখ্যমন্ত্রী, বিধায়ক ভগবান দাস, বিধায়ক সুধাংশু দাস, ঊনকোটি জিলা পরিষদের সভাধিপতি অমলেন্দু দাস, বিদ্যুৎ নিগমের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ড. এম এস কেলে, বিদ্যুৎ নিগমের ডাইরেক্টর (টেকনিক্যাল) প্রমুখ প্রকল্পটি ঘুরে দেখেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা করোনার উদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে লকডাউন, করোনা কার্টুর মধ্যেও আড়াই বছরের মধ্যে সাব স্টেশনটির নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্য নির্মাণ সংস্থা সহ তার সাথে যুক্ত ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিকদেরও অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, কী শহর, কী গ্রাম মানুষের মধ্যে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। এটা উন্নয়নেরই লক্ষণ। মানুষের কথা বিবেচনায় রেখে আমাদের সরকার উন্নতমানের ও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে গুরুত্ব দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই সরকার আসার পর সৌভাগ্য যোজনায় ১ লক্ষ ৩৬ হাজার বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিককালে রাজ্যে ৯টি বিদ্যুৎ সাব স্টেশন উদ্বোধন হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৩৪টি সাব স্টেশনের উদ্বোধন করা হবে। বিদ্যুৎ পরিষেবায় স্মার্ট কল সেন্টার করা হয়েছে।
নতুন নতুন টেকনোলজি নিয়ে আসা হয়েছে, মানুষের অভিযোগগুলো দ্রুত সুরাহা করতে দিনরাত কাজ করছে বিদ্যুৎ নিগম। উপমুখ্যমন্ত্রী শ্রী দেববর্মা বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর এক পয়সাও বিদ্যুৎ মাসুল বাড়ানো হয়নি।
মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা ও ভালোবাসা থেকেই রাজোর সর্বত্র বিদ্যুৎ উন্নয়নে নতুন সরকার কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক ভগবান দাস বলেন, কুমারঘাট মহকুমাবাসী আজ ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী রইল।
মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ও উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মার আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই সাব স্টেশনটি নির্মাণ হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার মানুষের চাহিদা পূরণে বলিষ্ঠতার সাথে কাজ করছে। এই উদ্যোগ ১০ বছর আগেই নেওয়া উচিত ছিলো।
জিলা পরিষদের সভাধিপতি অমলেন্দ দাস বলেন, বিদ্যুৎ উন্নয়নে জেলায় আরও সাব স্টেশন নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। এর মধ্যে ফটিকরায়ে দু’টি এবং কৈলাসহরে একটি সাব স্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে।