অনলাইন ডেস্ক, ১৩ আগস্ট।। চার নাবালিকাকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছিল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। দিল্লির একটি আদালত তাঁকে বেকসুর খালাস করে দিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, অভিযুক্তের প্রতি ওই নাবালিকাদের অভিভাবকদের কোনও বদ্ধমূল আক্রোশ থেকে তাঁকে মিথ্যাভাবে ফাঁসানো হয়েছে। অভিযুক্ত দলিত সম্প্রদায়ভুক্ত। মুখ্য জেলা ও সেশন বিচারপতি ধর্মেশ শর্মা অভিযুক্তকে মুক্তি দিয়েছেন।
তাঁর বিরুদ্ধে পকসো আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা চলছিল। ২০১৫ সালের ১৮ মে থেকে তিনি হাজতবাস করছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, তিনি একজন ‘সিরিয়াল যৌন’ নিগ্রহকারী এবং চার নাবালিকার সঙ্গে যৌন সঙ্গম করেছেন। এদিকে, আদালত বিরল ঘটনা ঘটিয়েছে। ওই ব্যক্তিকে ১ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ দুই মাসের মধ্যে দিতে রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে।
আদালতের বক্তব্য, এটি একটি প্রতীকী অর্থ এবং ওই ব্যক্তির আইনি অধিকারের বাইরে গিয়ে ধার্য করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, বিচার চলাকালীন অভিযুক্ত জানান যে, তাঁকে মিথ্যাভাবে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। শুধুমাত্র দলিত হওয়ার জন্য উচ্চবর্ণের অভিযোগকারীরা তাঁর বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেছেন। তাঁর বাড়ির বাইরে অভিযোগকারীদের কুকুর মলমূত্র ত্যাগ করায় অনেকবার তাঁর সঙ্গে তাঁদের বচসা হয়েছিল।
আদালত জানিয়েছে, প্রচুর এমন প্রমাণ রয়েছে যা থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, ওই ব্যক্তিকে মিথ্যাভাবে ফাঁসিয়েছে অভিযোগকারীরা। নাবালিকাদের অভিভাবকরা ব্যাপকভাবে তাঁদের কন্যাদের শিখিয়ে পড়িয়ে এনেছিলেন যাতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জ গুরুতর হয়। অভিভাবকদের এই আচরণকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়েছে মহামান্য আদালত। পুলিশকেও এক হাত নিয়ে আদালত জানিয়েছে, তদন্ত একপেশে হয়েছে এবং এতে কোনও নিরপেক্ষতা ছিল না।