স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ৮ আগস্ট।। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রদর্শিত পথকে প্রত্যেকের জীবনে রপ্ত করতে পারলেই কবিগুরুর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। ত্রিপুরার মাটির সঙ্গে কবিগুরুর আত্মিক সম্পর্ককে স্মরণ করে তাঁর পান্ডিত্য, কর্মনিষ্ঠা, সঙ্গীত, সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধতাকে যত বেশি এই সমাজ ব্যবস্থায় লাগু করা যাবে জাতি জনজাতির এই মিলনস্থল আরও সমৃদ্ধ হবে।
আজ তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের ২নং প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবসে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।
এদিন কবিগুরুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিরা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরার সাথে কবিগুরুর আত্মিক সম্পর্ক ও তাঁর বিভিন্ন সৃষ্টি রাজ্যের কলা এবং সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে কোনও রাজ্যের সর্বাঙ্গীন বিকাশ সম্ভব নয়।
তাঁর সাথে জরুরি ভারতীয় সংস্কৃতির বিকাশ। আমাদের সাংস্কৃতিক চর্চা প্রত্যেককে একসূত্রে বেঁধে রাখে। এই একতাই রাজ্যের সর্বাঙ্গীন উন্নয়নে আরও গতি সঞ্চার করে। বিগত দিনে রাজ্যে একটি অন্য বিচারধারাকে অধিক প্রাধান্য দেওয়া হতো। সরকার রাজ্যে সাংস্কৃতিক চর্চার বিকাশে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত দিনে রাজ্যে অন্য একটি বিচারধারাকে অধিক প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিলো। ফলে কবিগুরুর মতো ব্যক্তিত্বদের জীবনী অবলম্বনে প্রকাশিত চটি বইয়ের উপলব্ধতা রাজ্যে হ্রাস পেয়েছে। প্রসঙ্গক্রমে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের কোভিড আক্রান্তদের চিকিৎসা করার ফলে একটি নির্দিষ্ট নিয়মে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয়েছিলো।
সেই সময়ে তাদের হাতে রবীন্দ্রনাথ ও বিভিন্ন মনীষী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনী ও তাদের সাহিত্য অবলম্বনে বিভিন্ন বই তাদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রয়াস নেয় সরকার। সেই সময়েই দেখা যায় রাজ্যের বাজারে ভারতীয় সভ্যতা সংস্কৃতি এবং মনীষীদের জীবনী অবলম্বনে বইয়ের সংখ্যা অপ্রতুল। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় সভ্যতা সংস্কৃতির সাথে যোগাযোগ নেই এমন বিশেষ কিছু বই রাজ্যের পাওয়া যেত।
রবীন্দ্রনাথের মতো মনীষীদের চিত্তন এবং ভাবনার বিকাশ জনমানসে প্রতিফলিত হওয়ার ক্ষেত্রে এই ধরনের বইয়ের রাজ্যে অপ্রতুলতার পেছনে কি কারণ রয়েছে তা অনুধাবন করার জন্য রাজ্যবাসীর প্রতি আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু বর্তমান রাজ্য সরকার সাংস্কৃতিক চর্চার বিকাশ ও প্রসারে অধিক গুরুত্ব দিয়েছে। বর্তমান ই-বুক এবং ডটকমের যুগেও বইয়ের চাহিদা হ্রাস পাওয়ার সুযোগ নেই।
প্রসঙ্গক্রমে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় সংস্কৃতিকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতেও অনবদ্য অবদান রেখেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দও। যুবকদের শারীরিক সুস্থতার লক্ষ্যে ফুটবল খেলার প্রতি তিনি বেশি আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। স্বামী বিবেকানন্দ ছিলেন আধুনিক মানসিকতা সম্পন্ন সন্ন্যাসী।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতীয়রা সর্বধর্মের প্রতি সমান শ্রদ্ধাশীল।
ক্ষমা সুন্দর উদার মানসিকতা ভারতীয় সংস্কৃতির পরিচয়। ভারতীয় এই সংস্কৃতিকে মেলে ধরার ক্ষেত্রে নিজের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। একটি সুস্থ সমাজ গড়ার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে সাংস্কৃতিক চর্চার।
এক্ষেত্রে উন্নয়নের শিখরে ত্রিপুরাকে নিয়ে যেতে সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ত্রিপুরার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের নিবিড় যোগ থাকার পেছনে বিশেষ ভূমিকা ছিলো রাজাদের। বিক্রম কিশোর মাণিকা বাহাদুর কবিগুরুকে ‘ভারত ভাস্কর’ সম্মানে ভূষিত করেছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব কিরণ গিতো বলেন, আয়তনের দিক দিয়ে ত্রিপুরা ছোট্ট হতে পারে। কিন্তু সংস্কৃতি ও সাহিত্য চর্চায় ত্রিপুরার ব্যাপ্তি অনেক। সাংস্কৃতিক চর্চা ও সাহিত্যের বিকাশে ত্রিপুরার রাজারা ছিলেন আন্তরিক।
বিশ্বভারতীর বিশ্ববিদ্যালয়কে সহায়তা সহ বিভিন্ন বিজ্ঞানী ও সাহিত্যিকদের চর্চায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন ত্রিপুরার রাজারা। ত্রিপুরা নিয়ে রবীন্দ্রনাথের লেখা রাজর্ষি বিসর্জন, মুকুটের মতো বিভিন্ন সৃষ্টি রাজ্যে সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
এদিনের অনুষ্ঠানের অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যভিত্তিক সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সুভাষ দেব, ত্রিপুরা স্টেট হায়ার এডুকেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অরুণোদয় সাহা, বিশিষ্ট রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী কমল বরণ চক্রবর্তী, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা রতন বিশ্বাস প্রমুখ।