অনলাইন ডেস্ক, ৬ আগস্ট।। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকার আজ জি-২০ গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির গবেষণা বিষয়ক মন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নেন। ইতালির পক্ষ থেকে ভার্চ্যুয়াল এবং প্রত্যক্ষ – উভয় পদ্ধতিতেই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল।
বৈঠকে জি-২০ দেশগুলির শিক্ষা মন্ত্রীরা এক মজবুত, দীর্ঘস্থায়ী, নমনীয় ও সার্বিক সংস্কারের লক্ষ্যে গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির মধ্যে গবেষণামূলক সহযোগিতা এবং ডিজিটাল ক্ষেত্র সম্পর্কিত তথ্যের আদানপ্রদান বাড়ানোর ব্যাপারে মতবিনিময় করেন। এই বৈঠকে বিভাগীয় প্রতিমন্ত্রী শ্রীমতী অন্নপূর্ণা দেবী, ডঃ রাজকুমার রঞ্জন সিং, মন্ত্রকের সচিব শ্রী অমিত খারে সহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে শ্রী সরকার গবেষণাধর্মী কাজকর্মের প্রসারে এবং যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে দক্ষতা বৃদ্ধি ও দক্ষতার মানোন্নয়নে জি-২০ দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়াতে ভারতের অঙ্গীকারের কথা পুনরায় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, জি-২০ দেশগুলির সঙ্গে একযোগে কাজ করতে ভারত সর্বদাই প্রাধান্য দিয়ে এসেছে।
সেইসঙ্গে, সাধারণ সমস্যাগুলির প্রামাণ্য সাক্ষ্যভিত্তিক সমাধান খুঁজে বের করতেও সক্ষম হয়েছে। জাতীয় শিক্ষানীতি, ২০২০ প্রসঙ্গে শ্রী সরকার বলেন, এই শিক্ষানীতি প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর সুচিন্তিত দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী গত বছর থেকে শুরু হয়েছে। জাতীয় স্তরে একটি গবেষণাধর্মী সংস্থা গঠন করে দেশে গবেষণামূলক কাজকর্মের অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর এই নীতিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শ্রী সরকার আরও জানান, ভারতে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে বিদ্যালয় পাঠ্যসূচিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে আঞ্চলিক ভাষাতে ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে পঠনপাঠন শুরু হয়েছে। এর ফলে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের বাধা-বিপত্তি অনেকাংশে দূর হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভারত ও অন্যান্য দেশের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গবেষণাধর্মী সহযোগিতার প্রসারে জ্ঞান এবং এসপিএআরসি-এর মতো অভিনব কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এখন ভারতীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে দ্বিমুখী শিক্ষার প্রসারে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছে। এই লক্ষ্যে দেশে ইতিমধ্যেই অ্যাকাডেমিক ব্যাঙ্ক অফ ক্রেডিট ব্যবস্থা চালু হয়েছে।
মহামারীর সময় ভারতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে গবেষণাধর্মী কাজকর্ম এবং কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে টিকা উদ্ভাবনের প্রয়াস অব্যাহত থেকেছে বলে জানিয়ে শ্রী সরকার বলেন, কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যাবসায়ের ফলেই ভারত স্বল্প মূল্যের ভেন্টিলেটর ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম ও উপকরণ আবিষ্কারে সক্ষম হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে সর্বাধিক সুফল পাওয়ার লক্ষ্যে ভারত প্রাসঙ্গিক সমস্ত প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
এই লক্ষ্যে জাতীয় স্তরে শিক্ষা প্রযুক্তি ফোরাম গঠন করা হয়েছে। মহামারীর সময় ছাত্রছাত্রীদের সমস্যা দূর করতে জি-২০ দেশগুলি যে প্রয়াস গ্রহণ করেছে ভারত তাকে সাধুবাদ জানায়। এই উদ্যোগের ফলেই মহামারীর মতো জটিল সময়েও এক নমনীয় শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি প্রতিষ্ঠা হয়েছে।
মহামারীর সময় পঠন-পাঠন অব্যাহত রাখতে ভারতেও ভার্চ্যুয়াল ও প্রত্যক্ষ – উভয় পদ্ধতিতেই শিক্ষণ ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা হয়েছে। এই লক্ষ্যে শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দিতে ‘পিএম ই-বিদ্যা কর্মসূচি’ শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচিতে অনলাইন, টেলিভিশন ও বেতারের মাধ্যমে পঠন-পাঠন অব্যাহত থেকেছে। এমনকি, ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক সমাজের সুবিধার্থে ‘স্বয়ম’, ‘দীক্ষা’ ও ‘স্বয়ম প্রভা’র মতো অভিনত উদ্যোগ শুরু হয়েছে।
জি-২০ দেশগুলির এক নমনীয় শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভারত সরকার এই গোষ্ঠীর সদস্য দেশগুলির সমবেত প্রয়াসকে সমর্থন জানায় বলেও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পুনরায় উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভিন্ন অগ্রাধিকার পূরণে গোষ্ঠীর সদস্য দেশগুলির সঙ্গে একযোগে কাজ করতে ভারত অত্যন্ত আগ্রহী।
বৈঠক শেষে এক মজবুত, দীর্ঘস্থায়ী, নমনীয় ও সার্বিক সংস্কারমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্যে গবেষণাধর্মী কাজকর্মে সহায়তা, উচ্চশিক্ষা ও ডিজিটালকরণ সম্পর্কিত জি-২০ গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির মন্ত্রীরা একটি ঘোষণাপত্রে সম্মতি দেন।